অ্যাজমার ট্রিগার সম্পর্কে জানুন!

অ্যাজমার ট্রিগার বলতে কি বোঝায়?

অ্যাজমার ট্রিগার হচ্ছে এমন কিছু যা আপনার অ্যাজমার লক্ষণ গুলো প্রকাশ করে বা লক্ষণগুলোকে বাড়িয়ে দেয়। আপনি হয়ত খেয়াল করতে পারেন যে অনেক সময় বিড়াল আশপাশে থাকলে বা ধূলাবালির সংস্পর্শে এলে আপনার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। আবার অনেকের ফুলের রেণু, ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় কিংবা ধূমপায়ী/ সিগারেটের ধোঁয়া কাছে এলে এমন হয়। একেকজনের ক্ষেত্রে এই ট্রিগারগুলো একেক রকম হতে পারে।

একদিকে যেমন আপনার অনেকগুলো ট্রিগার থাকতে পারে, অপরদিকে আপনার সব ট্রিগারগুলো খুঁজে বের করাও একটি কঠিন কাজ।

আপনার অ্যাজমার লক্ষণগুলো যদি একটার বেশি ট্রিগার দিয়ে প্রকাশ পায়, তাহলে প্রতিক্রিয়াও অনেক তীব্র হতে পারে; যেমন- আপনার সর্দি আছে এমন অবস্থায় কোন বিড়ালের সংস্পর্শে এলেন। এর থেকে এই ব্যাখ্যা করা যায় কেন মাঝে মাঝে কোন ট্রিগার কখন অ্যাজমার লক্ষণ বাড়ায়, আবার কখন বাড়ায় না।

 

অ্যাজমার ট্রিগার কি কি?

অ্যাজমার ট্রিগারগুলো হলঃ

  • অ্যালকোহল
  • পশুপাখি বা পোষা প্রাণী
  • সর্দি-কাশি
  • আবেগ
  • ব্যায়াম
  • খাবার
  • হরমোন (নারীদের ক্ষেত্রে)
  • গৃহস্থালির ধূলাবালি
  • ঘরের পরিবেশ
  • ঝুরো মাটি বা ছত্রাক
  • ফুলের রেণু
  • দূষণ
  • নেশাজাতীয় মাদকদ্রব্য
  • দৈহিক মিলন
  • ধূমপান
  • ক্লান্তি
  • আবহাওয়া

অ্যাজমা এর কারণ আর ট্রিগার এর মধ্যে পার্থক্য কি?

যখন আমরা অ্যাজমার কারণ নিয়ে কিছু বলি আমরা প্রথমেই বুঝাতে চাই এটা কেন হয়।

এ নিয়ে অনেক আলাদা তথ্য থাকলেও (উপরে যেমন বলা হয়েছে),কারো অ্যাজমা হলে, তার কেন হয়েছে এটা সুনির্দিষ্ট করে বলা যায় না। যখন আমরা অ্যাজমার ট্রিগার নিয়ে কথা বলি, তখন আমরা এমন কোনো কারণ বুঝাতে চাই যার জন্য অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দেয় বা তা আরও খারাপ আকার ধারন করে।

যেমন, কেউ যদি এমন কারো বাসায় যায়, যার পোষা প্রাণী আছে বা কেউ যদি ধূলাবালি ভর্তি কোনো রুমে কিছুক্ষন থাকে তাহলে তার অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া আরও কিছু সাধারণ ট্রিগার হলো ব্যায়াম, কোনো কিছুর কণা, ঠাণ্ডা আবহাওয়া বা সিগারেট এর ধোঁয়া।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, অ্যাজমা ট্রিগারের প্রভাবগুলোকে

কমাতে আপনি দুইটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারেন।  

১. আপনার অ্যাজমা যথাসম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

এর ফলে আপনার প্রতিক্রিয়া অনেক কম হবে, যদিও আপনি কোন ট্রিগারের সংস্পর্শে আসেন।অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে ভাল উপায়গুলো হলঃ

আপনার প্রতিরোধমূলক ওষুধগুলো ডাক্তার যেভাবে বলেছেন, ঠিক সেইভাবে গ্রহণ করা। এই ওষুধগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যা প্রতিদিন নেপথ্যে কাজ করতে থাকে এবং আপনার দৈনন্দিন জীবনে কোন ট্রিগারের কাছে এলেই শরীরের প্রতিক্রিয়া কমিয়ে দেয়।

একটি লিখিত অ্যাজমা অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করুন, যাতে আপনার অ্যাজমার কোন কোন বিষয়গুলোতে আরও সাহায্য দরকার ও আপনার স্বাস্থ্যকর্মী বা অ্যাজমা নার্সের সাথে কি কি আলোচনা করতে হবে সেগুলো বের করতে পারেন।

নিয়মিত আপনার অ্যাজমার পরীক্ষা করান। এতে আপনি ও আপনার স্বাস্থ্যকর্মী/অ্যাজমা নার্স আপনার অ্যাজমা ও এর ট্রিগারগুলো সম্পর্কে আরও কথা বলতে পারেন। এভাবে আপনি নিশ্চিত হতে পারবেন যে আপনার কাছে সঠিক ওষুধগুলো রয়েছে ও সেগুলো আপনার জন্য সেরা কাজটিই করছে।

২. জানুন কোন ট্রিগারটি আপনার উপর প্রভাব ফেলে।

আপনি যদি বুঝতে পারেন, কোন কোন ট্রিগারগুলো আপনাকে প্রভাবিত করে, আপনি হয়ত সেগুলো এড়াতে পারবেন। আবার এড়াতে না পারলেও আপনি স্বাস্থ্যকর্মী/অ্যাজমা নার্সের কাছে কিভাবে এই ট্রিগারগুলোর আপনার অ্যাজমা বাড়ানো বন্ধ করানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।

আপনার কি কোন সুস্পষ্ট ট্রিগার আছে?

অনেক সময় এটা স্পষ্ট আপনার অ্যাজমা কিসের মাধ্যমে বাড়ছে। যেমন- কোন একটা বিড়াল বা কুকুর কাছে আসার মিনিটের মধ্যেই আপনার লক্ষণ শুরু হল। তো, আপনার ট্রিগার কোনগুলো? মাঝে মাঝে একদম নির্দিষ্ট করে সেটা বলা কঠিন। কারণ, অনেক সময় ট্রিগার অদৃশ্য হতে পারে যেমন- ঘাসের রেণু; আবার আপনার একটির বেশি ট্রিগার থাকতেই পারে; আবার কখন কোন ট্রিগারের প্রতি আপনার শরীর অনেক দেরিতে প্রতিক্রিয়া করে। একটু পর্যবেক্ষণ করা লাগতে পারে- একটা ডায়েরীর মধ্যে কোন কাজে কি লক্ষণ তৈরি হচ্ছে লিখতে থাকুন! একসময় একটা প্যাটার্ন বের করে ফেলতে খুব সহজ হবে।

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago