অ্যাজমার লক্ষণ!

অ্যাজমার লক্ষণ গুলো হলঃ

  • কাশি হওয়া, বিশেষ করে রাতে অথবা ব্যায়াম করার বা জোরে হাসার সময়
  • শ্বাসকষ্ট হওয়া
  • বুকে চাপ অনুভব করা
  • শ্বাসের সাথে সাঁ সাঁ শব্দ হওয়া (বুকে একধরণের বাঁশির মত বা তীক্ষ্ন একটা শব্দ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে বের হয়)

অ্যাজমার লক্ষণ গুলো জানা খুবই প্রয়োজনীয়।

 

অ্যাজমা এর লক্ষণগুলো কি কি কারণে দেখা যায়?

অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসনালী অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয় এবং যেকোন উত্তেজনা-সৃষ্টিকারী-বস্তুর উপস্থিতিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। যদিও অ্যাজমা বিষয়টি একটু জটিল, তবুও দুটি প্রধান কারন আছে যার ফলে অ্যাজমার উপসর্গ সমূহ দেখা যায়-

১. এলার্জি সংক্রামক বস্তুর সংস্পর্শে এলে যাদের এলার্জিক অ্যাজমা আছে তাদের এলার্জির সংক্রমন হয়। সাধারন এলার্জি সংক্রামক বস্তু গুলো হল পরাগরেনু, ধুলাবালি, ক্ষুদ্র পরজীবী ইত্যাদি।

২. যদি এলার্জিক অ্যাজমা না হয়ে থাকে তাহলে অ্যাজমার উপসর্গ সমূহ অন্য কোন যন্ত্রণাদায়ক পদার্থের কারনে হয় যা নিঃশ্বাস এর মাধ্যমে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করে। কিন্তু এদের কারনে এলার্জিক প্রতিক্রিয়া হয় না। অন্যান্য পদার্থ যা এই সব উপসর্গের কারন তাদের মধ্যে আছে সিগারেট এর ধোঁয়া, গাড়ির কালো ধোঁয়া ইত্যাদি। অন্যান্য আরও যেসব কারনে অ্যাজমা আক্রমন হতে পারে তা হল, ব্যায়াম, ঠান্ডা আবহাওয়া, ঠান্ডা-কাঁশি এবং ফ্লু।

এলার্জি না অন্য কোন কারন উভয় ভাবেই অ্যাজমার উপসর্গ দেখা যেতে পারে। এর মানে আপনার এলার্জিক ও নন এলার্জিক উভয় ধরনের অ্যাজমা হতে পারে। এ সম্পর্কে আরও তথ্য আপনি এখানে পাবেন।

 

আপনার লক্ষণগুলো আরো খারাপের দিকে যেতে থাকলে করণীয়ঃ

যদি আপনার উপসর্গ/লক্ষণ খারাপ হতে থাকে, তাহলে আপনাকে অ্যাজমার পরীক্ষার জন্য আপনার ডাক্তার বা হাঁপানি নার্সকে দেখাতে হবে। তারা আপনাকে আপনার উপসর্গ/লক্ষণ সম্পর্কে এবং আপনি কেমন অনুভব করছেন, সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে। তারা আপনার বুকের ধুকফুকানির আওয়াজ শুনতে পারবে এবং আপনার অগ্রভাগের প্রবাহ (Peak Flow) পরীক্ষা করে দেখবে এটা জানার জন্য যে, এটি স্বাভাবিক এর সাথে তুলনীয় কিনা। তারা এটাও আপনার কাছে জানতে চাইবে যে,আপনি ঘনঘন ঔষুধ গ্রহন করছেন কি না এবং তারা আপনার ইনহেলার প্রয়োগ কৌশল পরীক্ষা করবেন।

কখনও কখনও ইনহেলারের ডোজ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন হতে পারে অথবা ইনহেলারের সাথে অন্যান্য কোনো ঔষুধ যোগ করা লাগতে পারে।

মাঝে মাঝে যখন অ্যাজমা খারাপ অবস্থায় পৌছে যায় তখন এর চিকিৎসার সাথে স্টেরয়েড ট্যাবলেটের একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স ‘Prednisolone’ ব্যবহার প্রয়োজনীয় হয়ে উঠে। ভাল খবর এই যে, সঠিক সেবা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে অধিকাংশ মানুষ নূন্যতম উপসর্গ নিয়ে পূর্ণ ও সচল জীবন-যাপন করতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে কয়েক মাসের জন্য যখন আপনার অ্যাজমা রোগটি নির্মূল হচ্ছে, এমনটি আপনি অনুভব করতে পারছেন, তখন আপনি আপনার ডাক্তার এর সাথে পরামর্শ নিয়ে চলমান ঔষুধের সাথে ‘Stepping Down’ (or Reducing) ঔষুধটি ব্যবহার করতে পারেন। এমন অবস্থায় এটি লক্ষ্য রাখতে হবে যে আপনার অ্যাজমার লক্ষণ এমন হয় যেন এটার জন্য অন্তত অল্প পরিমাণ ঔষুধ লাগে।

ধীরে ধীরে আপনাকে ঔষুধের পরিমাণ কমাতে হবে কিন্তু অ্যাজমা যদি আবার ফিরে আসে তাহলে আপনাকে আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যাকআপ পদ্ধতির পদক্ষেপ নিতে হবে। একটি হাঁপানি কার্য-পরিকল্পনা আপনাকে জানিয়ে দিবে কখন আপনি আপনার হাঁপানি ওষুধের পরিমাণ বাড়াতে বা কমাতে পারবেন। সুতরাং, এ সম্পর্কে একটি জানান পেতে আপনার ডাক্তার এবং হাঁপানি নার্সের সাথে কথা বলুন।

 

অ্যাাজমার লক্ষণগুলো অনেকটা ক্ষীণ হয়ে গেলে করণীয়ঃ

এমনটি হলে আপনি প্রয়োজনে ঔষুধ গ্রহণ করা বন্ধ করতেই পারেন কিন্তু আপনাকে আপনার চিকিৎসকের অনুমতি অবশ্যই নিতে হবে। যদি আপনি আপনার ‘Preventer-নিবারক’ চিকিৎসা যথাবিহিত গ্রহন করেন এবং আপনার যদি কোন উপসর্গ দেখা না যায়, এটি ইঙ্গিত করে যে আপনার চিকিৎসা কাজ করছে। যদি অন্তত তিন মাস আপনার আর কোন উপসর্গ দেখা না যায়, তবে একটি শ্বাসকষ্ট পর্যালোচনা লিপিবদ্ধ করুন যাতে আপনার GP/জিপি (জেনারেল ফিজিসিয়ান) বা শ্বাসকষ্ট সেবিকার সাথে আপনার চিকিৎসা এবং লিখিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। আপনার জিপি বা শ্বাসকষ্ট সেবিকার উচিত হবে আপনার ঔষুধের মাত্রা কমানো।আপনার শ্বাসকষ্ট আক্রমণের উপর নজর রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি লক্ষ্য করেন যে উপসর্গ গুলো ফিরে আসছে যেমনঃ

  • রাতে জোরে জোরে শ্বাস ফেলছেন
  • কাশছেন অথবা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় ‘Reliever -Inhaler’ ব্যবহার করছেন

তাহলে একটি সতর্কবার্তা এই যে, আপনি আসন্ন এবং জীবন সংশয়ী শ্বাসকষ্ট আক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন।

 

জানতে হবেঃ

১. আপনার শরীর স্টেরয়েড নামের হরমোন তৈরি করে যা আপনার শরীরের রক্তপ্রবাহ বা এর প্রবাহের মাত্রা উত্তেজনা বা শিথিল করতে সাহায্য করে। শ্বাস-নালীর উত্তেজনা বা শিথিলকরণ এই স্টেরয়েড নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ঘুমানো অবস্থায় এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তাই অ্যাজমা প্রায়ই রাতে এবং সকালে তীব্র আকার ধারণ করে থাকে।

২. অনেক সময় শ্বাসনালী কিছুটা সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়, যার ফলে কিছু লক্ষন দেখা যায়। কিন্তু অনেক সময় শ্বাসনালী এতই সরু হয়ে যায় যে অক্সিজেন ফুসফুসে ঢুকতে পারে না। এটা একটি বিপদজনক অবস্থা, এমন হলে দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago