অ্যাজমা সম্পর্কিত যত প্রশ্নঃ

 

 

১. অ্যাজমা কি কখনো ঠিক হয়?

যদিও অনেক গবেষণা চলছে, এখনও অ্যাজমার কোন সম্পূর্ণ প্রতিকার নেই। তবে খুশির খবর হল, লক্ষণগুলো কমানোর জন্য নিরাপদ ও ভাল চিকিৎসা রয়েছে। আপনাকে শুধু নিজের জন্য কোনটা বেশি উপযোগী তা খুঁজে বের করতে হবে, আর তা কাঁটায় কাঁটায় মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করতে হবে পুরোপুরি উপকার পাওয়ার জন্য।

২. আমার যদি ক্ষীণ বা মাঝারি অ্যাজমা থাকে তাহলে কি আমার অ্যাজমা

অ্যাটাকের সম্ভাবনা আছে?

হ্যাঁ। যদিও আপনার খুব তীব্র বা মাঝারি ধরণের অ্যাজমা থাকলেই অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে একেবারে ক্ষীণ অ্যাজমাও কারণেও মারাত্মক অ্যাজমা অ্যাটাক হতে পারে। তাই লক্ষণ একেবারে বা অল্প পরিমাণ থাকলেও ডাক্তারের দেয়া ওষুধগুলো ঠিক ঠিক ভাবে খেয়ে যেতে হবে।

৩. অ্যাজমা অ্যাটাকের ট্রিগার কি কি?

অনেক ধরণের জিনিসই অ্যাজমা ট্রিগার করতে পারে- পোষা প্রাণী, পরাগ রেণু,ব্যায়াম থেকে শুরু করে ঘরে থাকা ধূলাবালি। ট্রিগারগুলোর মধ্যে কোনটির প্রতি আপনি সংবেদনশীল, কিভাবে সেগুলো এড়ানো যাবে নিজেই বের করে ফেলুন।

৪. অ্যাজমা কিভাবে বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়?

যখন কোনো হাঁপানি আক্রান্ত ব্যক্তি এমন কোন বস্তুর সংস্পর্শে আসেন যা তার সংবেদনশীল শ্বাসনালীতে অসস্তির উদ্রেক করে,তখন তাদের দেহ তিন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখায়:

১. শ্বাসনালী সংকুচিত এবং এর চারপাশের পেশিগুলো শক্ত হয়ে যায়

২. শ্বাসনালীর প্রাচীরে জ্বলন হয় এবং তা স্ফীত হতে থাকে

৩. কখনও আঠালো শ্লেষ্মা ও সর্দির তৈরী হয় যা শ্বাসনালীকে সরু করে তোলে এমন প্রতিক্রিয়া শ্বাসপ্রশ্বাসকে পীড়াদায়ক করে তোলে এবং বক্ষদৃঢ়করন,হাঁচি,কাশির মত হাপানির লক্ষন দেখা দেয়।

৫. অ্যাজমার ভয়াবহতা কতটুকু?

সচেতন থাকলে এর ভয়াবহতা প্রতিরোধ করা যায়। ৯০% অ্যাজমার কারণে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। আর ৭৫% অ্যাজমা রোগীকে সুস্থ থাকতে পারবে কিছু নিয়ম মেনে চললে। একটু সচেতনতাই পারে অ্যাজমাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

৬. অ্যাজমা সাধারণত কখন হয়?

অ্যাজমা যে কোন বয়সে হতে পারে। লক্ষণগুলো সাধারনত শৈশবেই দেখা যায়, কিন্তু প্রাপ্তবয়স্কদের হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু না। কোনো কোনো প্রাপ্তবয়স্কদের ভাইরাস আক্রমণে এটা হয়ে থাকে যা ‘adult onset’ বা ‘late onset’ নামে পরিচিত। কর্মস্থলে কেমিক্যাল বা কাঠের ধুলাবালি থেকেও অ্যাজমার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এটাকে পেশাগত অ্যাজমা বলা হয়।

৭. আমার শিশুকে অ্যাজমার হাত থেকে কিভাবে বাঁচাব?

আপনি নিম্নোক্তভাবে সাহায্য করতে পারেনঃ

-আপনার শিশুকে নিয়মিত অ্যাজমা পরীক্ষা করতে নেয়া

যদিও আপনার শিশুর অ্যাজমা লক্ষণসমূহ নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবুও প্রত্যেক ৬ মাস অথবা কমপক্ষে বছরে ১ বার অ্যাজমা পরীক্ষণের জন্য নিবন্ধন করা খুবই প্রয়োজনীয়। এভাবে জিপি বা অ্যাজমা নার্সরা তাদের অবস্থা এবং তাদের ব্যবস্থাপত্র দেখে কোন কিছু সমন্বয় করার প্রয়োজন হলে করবেন। এছাড়াও এটা একটা সুযোগ তাদের লিখিত অ্যাজমা কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলার, তাদের ইনহেলার প্রয়োগ কৌশল পরীক্ষা করার, যেকোন মহড়া নিয়ে আলোচনা করার, তাদের পরিবেশ এবং অন্যান্য উপাদান যেগুলো তাদের অ্যাজমায় প্রভাব ফেলে, যেমন – ঠান্ডা এবং জ্বর।

-আপনার শিশুকে প্রতিদিন নিবারক ঔষধ গ্রহণে উৎসাহিত করা

-অ্যাজমা ভাল রাখতে চাইলে আপনার শিশুকে প্রতিদিন সাধারণত সকালে সন্ধ্যায় যথাবিহীত নিবারক ঔষধ গ্রহণ করতে হবে।

-একটি লিখিত অ্যাজমা কর্ম পরিকল্পনা অণুসরণ করা। গবেষণায় দেখা যায় আপনার শিশুর অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে এটা উত্তম উপায়

-বিস্তারিত আরও খুঁজে বের করুন অ্যাজমা বিষয়ক পরিকল্পনা UK’র পুরষ্কার প্রাপ্ত শিশুদের জন্য ‘আমার অ্যাজমা পরিকল্পনা’ থেকে।

-ধূমপান পরিত্যাগ করা

-আপনি যদি ধূমপায়ী হন তাহলে আপনার শিশুকে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে এবং তাঁর অ্যাজমা ঔষধ কাজ নাও করতে পারে। তামাক ধোঁয়ার কাছাকাছি অবস্থান করলেও এটা আপনার শিশুর অ্যাজমা লক্ষণকে আরও খারাপ করে দিবে।

৮. আমার অ্যাজমা আছে কিনা আমি কিভাবে বুঝব?

অ্যাজমা জটিল আকার ধারন করতে পারে এবং নির্ণয় করাও সময় সাপেক্ষ। যদিও কাঁশি, সাঁ সাঁ শব্দ করা, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসা, বুকে ব্যাথার মত কিছু লক্ষন দেখা গেলেও এর জন্য প্রকৃতপক্ষে কোন পরীক্ষা নেই। তাই হাঁপানী আছে কিনা তা জানার জন্য ব্যাক্তিগত বা পারিবারিক ইতিহাস, কিছু উপসর্গ এবং জীবনযাত্রা জানার পাশাপাশি কিছু পরীক্ষা অ্যাজমা নির্নয়ে ভালো ফল আনতে পারে।

 

৯. শিশুদের অ্যাজমা কিভাবে পরীক্ষা করে?

একটিমাত্র পরীক্ষা আপনার সন্তানের অ্যাজমা আছে কিনা তা বলতে পারে না. এটি নির্ণয়ে সাহায্য করার জন্য, আপনার ডাক্তার আপনাকে প্রচুর প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে এবং খুঁজে বের করবে যদি আপনার সন্তানের বুকে কোনো সাঁ সাঁ শব্দ হয় কিনা, যাদের হাঁপানি ধরা পরবে তাদের সম্ভবত থাকবে:

– সাধারণত উপসর্গ (সাঁ সাঁ করে নিঃশ্বাস ফেলা, কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যাথা) একাধিক থাকতে পারে. এটা বিশেষ করে ভীতিকর যদি এই উপসর্গ :

  • ঘন ঘন ঘটে
  • সকালে ও ব্যায়াম পর ঘটে, রাতে সম্ভাবনা বেশি
  • যদি ঘরে গৃহপালিত পশুর থাকে, ঠান্ডা বা স্যাঁতসেঁতে বায়ু প্রবাহের সময়, বা যখন কান্না বা হাসা এমন সময়ও ঘটে
    ঠান্ডার মধ্যে ঘটে

– অ্যাজমার প্রবণতা পারিবারিক কারণেও হতে পারে

– উপসর্গের জন্য অন্য কোন সম্ভাব্য ব্যাখ্যা না থাকা।

 

১০. অ্যাজমার জন্য সাধারণত কি ধরণের ঔষুধ দেওয়া হয়?

অ্যাজমার চিকিৎসার সবচেয়ে প্রচলিত উপায় হল ‘Preventer – প্রতিরোধক’ ইনহেলারের এর সাথে ‘Reliever- নিয়ামক’ ইনহেলারের ব্যবহার এবং কখনও কখনও ‘Combination-সমন্বয়ক’ ইনহেলারের ব্যবহার করা যার মধ্যে উভয়ের বৈশিষ্ট্যই বর্তমান। ‘Preventer- প্রতিরোধক’ ইনহেলার অবশ্যই নিয়মিত ব্যবহার করা উচিত; অন্যথায়য় প্রদাহ কমাতে দ্রত স্টেরয়েড ট্যাবলেট গ্রহন করতে হবে।

১১. আমার যদি অ্যাজমা থাকে তাহলে আমার সন্তানের সামনে কি আমার ধূমপান করা উচিৎ?

হ্যাঁ, আপনার সন্তানের সামনে কখনোই ধূমপান করবেন না; আপনার অ্যাজমা থাকুক অথবা না থাকুক। আপনার পরিবারের অন্যান্য সদস্য, পরিচিতজনকেও এথেকে বিরত থাকতে বলবেন । অ্যাজমা আক্রান্ত শিশুরা ধূমপায়ীদের সংস্পর্শে আসলে তাদের অতিরিক্ত কাশি অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে ফেলে ।

১২. আমার সন্তানের সহজেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়াটা কি স্বাভাবিক?

হতে পারে আপনার সন্তান অ্যাজমা পরবর্তি আঘাতের কা২ণে ক্লান্তি ও নিদ্রাহীন্তায় ভুগছে। যদি তারা কাশির কারণে ঘুমাতে না পারে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরনাপন্ন হবেন।

১৩. আমার সন্তান খেলতে চায়। ওকে কি খেলতে দিব?

যখন আপনার শিশু সুস্থ হয়ে উঠবে, তাদের জন্য দৌড়ানো এবং খেলা করা ভালো। যে সকল শিশুদের অ্যাজমা আছে তাদের জন্য অনুশীলন করা ভালো এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের এরূপ কোনো লক্ষণ দেখা দিবেনা এবং তাদের সাথে যদি তাদের ইনহেলার থাকে তাহলে তাদের দৌড়াতে এবং খেলা না করতে পারার কোনো কারণ নেই।

১৪. আমার সন্তান অনেক কাশছে। কি করব?

খেয়াল রাখবেন আপনার সন্তান যাতে ঠিকমতো ঔষুধ সেবন করে

– যদি তারা সঠিকভাবে স্পেসার ব্যবহার না করে অথবা ইনহেলার না নেয় তাহলে তারা প্রয়োজনীয় ঔষুধ পাবে না।

– যদি আপনার সন্তান এখনো কাশে , অ্যাজমা অ্যাকশন প্ল্যান ব্যবহার করতে জিপি অথবা অ্যাজমা নার্সের সাথে অ্যাপয়েনমেন্ট ঠিক করুন।

১৫. অ্যাজমা কিভাবে পরীক্ষা করাব?

আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত, পারিবারিক,ইতিহাস, চারদিক, লক্ষণগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। আপনার যদি মনে হয় যে আপনার অ্যাজমা আছে, তাহলে দ্রুত ডাক্তারের নিকট গিয়ে আপনার লক্ষণগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে। প্র‍য়োজনে কিছু পরীক্ষা এবং কিছু “Medical History” নিরীক্ষা করা হবে। অ্যাজমা অনেক জটিল একটি রোগ এবং এটি ধরা পড়তে সময় লাগতে পারে। এর কোন সুনির্দিষ্ট টেস্ট ও লক্ষণ নেই। পরিশেষে সামগ্রিক নিরীক্ষনের মাধ্যমে, আপনার অ্যাজমা আছে কি নেই এটা যাচাই করা হবে।

১৬. যদি আমার অ্যাজমা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভুগি তাহলে?

আপনার ডাক্তার যদি মনে করে অ্যাজমা বা হাঁপানির সম্ভাবনা আছে, তারা সম্ভবত ‘পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা’ করবে।
যদি তারা আপনার উপসর্গ\লক্ষণ প্রতিকার করতে চায়, তারা তখন আপনাকে এক বা একাধিক হাঁপানি
র ওষুধ দিবে। কি ঔষধ আপনাকে দেওয়া হয়েছে এর উপর ভিত্তি করে পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা দুই থেকে আট সপ্তাহ স্থায়ী হয়। এই ওষুধের মাত্রা খুব কম, যদিও আপনার শ্বাসকষ্ট না থাকে তবুও এই ওষুধগুলো গ্রহণের সুবিধা হলো আপনার শ্বাসকষ্ট আছে কি না তা জানা এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা রাখা।

আপনার হাঁপানির পূর্ব লক্ষণ ভালো হতে পারে, যদি আপনি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসায় প্রভাবান্বিত হন।
আপনার চিকিৎসা চলতে থাকবে এবং আপনার উপসর্গ\লক্ষণ অনুযায়ী আপনাকে কার্যকরভাবে সবচেয়ে কম ডোজ দেওয়া হয়, সেটির পরামর্শ দেত্তয়া হবে।

যদি আপনি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসায় প্রভাবান্বিত না হন, আপনার ডাক্তার আপনার শ্বাসগ্রহণের সহায়ক যন্ত্র কৌশল পরীক্ষা করবে, যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারে যে আপনি সঠিকভাবে ঔষধ সেবন করছেন।

আপনি যদি এটি যথাযথভাবে সেবন না করেন, তবে তারা সম্ভবত অন্য একটি পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসার কথা বলবে।
পনি যদি এটি যথাযথভাবে সেবন করে থাকেন, তবে তারা আরো কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলতে পারে।

আপনার পরিণামের উপর ভিত্তি করে আপনার ডাক্তার আপনার অন্যান্য সম্ভাব্য উপসর্গ\লক্ষণ পরীক্ষা করবেন।

আপনার হাঁপানি আছে এটি যদি আপনার কাছে অসম্ভাবনীয় মনে হয়, তবে আপনি একজন নার্সের সম্পর্কযুক্ত হতে পারেন। আপনার পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসার সময় যদি আপনার উপসর্গ\লক্ষণের অবনতি হয়, তবে আপনি দেরি না করে আপনার চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন হন।

 

১৭. অ্যাজমা এর পরীক্ষাগুলো কেমন ধরণের হয়?

আপনাকে হয়ত শ্বাসক্রিয়া পরীক্ষা (ফুসফুস ক্রিয়া পরীক্ষা) করার জন্য বলা হয়তে পারে,যা দ্বারা আপনার ফুসফুস কেমন ভাবে কাজ করছে তা পরিমান করা যাবে। আপনার জন্য কোন পরীক্ষাটি উপযুক্ত,সেটি আপনার ডাক্তার সিদ্ধান্ত নিবে।

এই পরীক্ষার রিপোর্টটি ডাক্তার কে সাহায্য করবে আপনার রোগ নির্ণয় করতে।কিন্তু এটাও জানা প্রয়োজন যে,আপনার রিপোর্ট যদি স্বাভাবিক ও আসে তবু শ্বাসকষ্টের সমস্যা থেকে যেতে পারে।কেননা,এই রিপোর্ট টি শুধুমাত্র সমস্যার একটি অংশ এবং শ্বাসকষ্টের লক্ষণ অনেক রকম। উদাহরণস্বরূপ বিকাল ৪টায় শ্বাসকষ্টের মাত্রা যদি স্বাভাবিক থাকে,একই দিনে রাত ৯টায় শ্বাসকষ্টের মাত্রা কমেও যেতে পারে। আবার আপনার যদি ঠাণ্ডার সমস্যা থাকে অথবা গত ৬ সপ্তাহ ধরে যদি কোনো ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত থাকেন,তাহলে এটার প্রভাব রিপোর্ট এ পড়তে পারে! সে ক্ষেত্রে,শ্বাসকষ্টের পরীক্ষার রিপোর্ট করার আগে এইসব অসুখ ঠিক হওয়ার জন্য আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

আপনি যখন ঔষধ গুলো  খাচ্ছেন,তখন আপনার কোনো উন্নতি হচ্ছে নাকি এটা দেখার জন্য আপনাকে আবার পরীক্ষা ও করতে দেয়া হতে পারে।এ ক্ষেত্রে জিপি অথবা নার্সরা ঔষধ খাওয়ার আগে এবং পরে আপনার শ্বাসকষ্টের মাত্রা মেপে নিবে। উলটা পরীক্ষা করার জন্য ও নানা রকম প্রক্রিয়া আছে। ডাক্তার আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত প্রক্রিয়াটিই বেছে দিবে।

যদি প্রয়োজন হয় তবে অন্যান্য পরীক্ষাও করা হবে।

১৮. আমার অ্যাজমা আছে এবং আমি গর্ভবতী। আমার সন্তানেরও কি

অ্যাজমা হবে?

আমরা হয়ত অ্যাজমার মূল কারণ বের করতে পারব না, কিন্তু আমরা এটা বলতে পারি যে এটি প্রায়ই পারিবারিক সূত্রে ছড়ায়। আপনি যদি গর্ভবতী এবং ধূমপায়ী উভয়ই একসাথে হন তাহলে আপনার শিশুর অ্যাজমা হতে পারে। এছাড়াও আপনি অথবা আপনার পার্টনার কারও যদি অ্যাজমা থাকে তাহলে সন্তানের অ্যাজমা হতে পারে। মায়ের যদি অ্যাজমা থাকে তাহলে সন্তানের অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেশি।

১৯. অ্যাজমার সময় কি স্টেরয়েড সেবন করা নিরাপদ?

অ্যাজমা রোগে অনেক শিশু এবং অধিকাংশ প্রাপ্তবয়ষ্ক কে স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ঔষধ গ্রহন করতে উপদেশ দেয়া হয়। স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ঔষধ গ্রহন করার ফলে তাদের হাঁচি কাশি, বুকে ব্যাথা, দম বন্ধ হওয়ার প্রবণতা অনেক কমে আসে। এমনকি এর ফলে শরীরে অ্যাজমা হওয়ার অনুঘটক যেমন পরাগরেণু বা দূষণ প্রভৃতির বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে।

এই প্রতিরোধক ইনহেলার, যা আপনি প্রতিদিন ব্যাবহার করবেন এতে খুব অল্প পরিমাণে স্টেরয়েড আছে যা আজমার লক্ষন গুলো নিয়ন্ত্রন করবে। যদি আপনি এটি নিয়মিত এবং সঠিক উপায়ে গ্রহণ করেন তাহলে তা শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করবে, সাধারনত যা না হলে শ্বাসনালীতে খুসখুসে ভাব সৃষ্টি হয় এবং রোগটির অনুঘটক সমূহের প্রতি শরীর সাড়া প্রদান করে। এতে অ্যাজমার আক্রমনের সম্ভাবনা কমে।

যদি অ্যাজমার লক্ষন আরও খারাপের দিকে যায় অথবা অ্যাজমার আক্রমন দেখা যায়, তাহলে এই প্রতিরোধক ইনহেলার শ্বাসনালীর প্রদাহ বন্ধ করার জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে চিকিৎসক হয়তো স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ট্যাবলেট গ্রহন করার উপদেশ দিবেন। এসব ঔষধে উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড থাকে যা জীবনের ঝুকি সৃষ্টিকারী অ্যাজমা আক্রমনের সম্ভাবনা কমায়।

অনেকে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ভয়ে স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ঔষধ গ্রহণ করার ব্যাপারে দুশ্চিন্তা করে। কিন্তু আমরা নিশ্চিত করছি যে এই প্রতিরোধক ইনহেলারের স্টেরয়েডের কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই, কারন এটি সরাসরি শ্বাসনালীর সেইখানে কাজ করে যেখানে এটির প্রয়োজন। বাকি শরীরে এটি খুব কম শোষিত হয়। এমনকি স্বল্প মেয়াদ, মানে ৩ সপ্তাহের মেয়াদে গ্রহন করা স্টেরয়েড ঔষধ শরীরে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেনা।

যদি আপনি উচ্চমাত্রার স্টেরয়েড সমৃদ্ধ ঔষধ লম্বা সময়ের জন্য গ্রহণ করে থাকেন তাহলে আপনার চিকিৎসক এর থেকে এর সুবিধা এবং সমস্যাবলী জেনে নেবেন। এবং যদি আপনি ঘন ঘন বিভিন্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় ভোগেন তাহলে তা প্রতিরোধের জন্য খুব বেশি উপায় নেই। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন।

২০. অ্যাজমা মেডিসিনের কারণে কি অস্টিওপরোসিস হয়?

অনেকদিন ধরে স্টেরয়েড ঔষধ ব্যবহার করা ব্যাক্তিরা হাড় ক্ষয় এর মত সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। রোগ সম্পর্কে চিকিৎসক এর সাথে নিয়মিত সাক্ষাতের সময় আপনার চিকিৎসক আপনাকে এসব সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে এবং কিভাবে সহজে এসব ঝুকি হ্রাস করা যায় তা সম্পরকে বলবেন।
এর মধ্যে আছেঃ

  • ব্যায়াম করা,
  • পুষ্টিকর খাবার খাওয়া বিশেষ করে প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া।(যেমনঃ সবুজ শাক শব্জি, শুকানো ফল, টকদই)
  • এবং ভিটামিন ডি (যেমনঃডিম, দুধ, তেল সমৃদ্ধ মাছ)
  • অতিরিক্ত ধুমপান ও মদ্যপান পরিহার করা

২১. অ্যাজমার ঔষুধের কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে?

ব্যাবস্থাপত্রের অন্যান্য ঔষধ এর মতই এজমার ঔষধ এর ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। কিন্তু আশ্বস্ত হওয়ার বিষয় হল এই ঔষধ গ্রহন করা অধিকাংশ ব্যাক্তিই এমনকি অনেকাংশে কোন ব্যাক্তিই এইসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার শিকার হবেনা। তার ওপর এসব ঔষধ তখনই ব্যবস্থাপত্রে সংযুক্ত করা হবে যদি এসবের সুবিধা, অসুবিধার চেয়ে বেশি হয়। এরপরও যদি আপনার দুশ্চিন্তা হয় তাহলে আপনার GP/জিপি বা অ্যাজমা চিকিৎসক এর সাথে কথা বলুন।

 

২২. অ্যাজমা থাকলে কি রোযা রাখা যায়?

রোজা হচ্ছে, ধার্মিক কারনে নিজ ইচ্ছায় সকল প্রকার খাবার ও পানীয় গ্রহন থেকে বিরত থাকা।

বলা বাহুল্য, অ্যাজমার রোগীদের রোজার কারনে অনেক সমস্যা দেখা যায় | কারণ, রোজা রাখার কারনে প্রেসক্রিপশান অনুযায়ী সময়মতো ঔষুধ সেবন করা সম্ভব হয় না – যেমন রোজা যাতে না ভেঙ্গে যায় সে কারনে সময়ের আগে/পরে ইনহেলার ব্যবহার পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে| উপরন্তু এভাবে ঔষুধ সেবন বন্ধ করার কারনে অ্যাজমার লক্ষণ পুনরায় দেখা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি-পূর্ণ হতে পারে।

ঔষুধ সেবন বন্ধ করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন |

 

২৩. অ্যাজমা কি ফুসফুসের কোনো ক্ষতি করে?

ঘন ঘন অ্যাজমা অ্যাটাক হলে আপনার শ্বাসনালী শক্ত ও সরু হয়ে যাবে। এটা ‘শ্বাসনালীর পুনর্বিন্যাস’ নামে পরিচিত। এটা হবার কারনে শ্বাসনালীর মধ্য দিয়ে কম বাতাস চলাচল করে, ফলে লক্ষনগুলো আরও ঘনঘন/খারপ হয়। ধূমপায়ীরা ঘনঘন অ্যাজমা অ্যাটাকের শিকার হয়,নিয়মিত ওষুধ সেবন না করলে তা মারাত্মক রূপ ধারন করে।’শ্বাসনালীর পুনর্বিন্যাস’ রোধের সর্বোৎকৃষ্ট উপায় হচ্ছে ধূমপান ত্যাগ করা এবং প্রতিরোধী ইনহেলার ও অন্যান্য পথ্য সেবন করা। যদি আপনার অবস্থা খারাপ হতে থাকে তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের সিরিয়াল দিন এবং তার সাথে সাক্ষাত করুন।

২৪. অ্যাজমা অ্যাটাকের পরে কি হয়?

অ্যাজমায় আক্রান্ত হবার পর আপনার শরীরের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে বেশ কিছু সময় লাগে। আপনি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ক্লান্তি ও অবসাদ অনুভব করবেন অথবা নিদ্রাহীনতায় ভুগবেন। অ্যাজমা আক্রান্ত পরবর্তি সময়ে বিভিন্ন অনুভূতির উদ্রেক হওয়া আপনার জন্য অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং আপনি পরবর্তি অ্যাটাকের এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার জন্য পরিবারকে বিপাকে ফেলার অসস্তিতে ভীত হবেনা। আপনি কোন হাসপাতাল বা কেন্দ্রে অ্যাজমা আঘাতের পর গেলে হাসপাতাল ত্যাগ করার পরবর্তি দুই কার্যদিবসের মধ্যে আপনার চিকিৎসকের সাথে আপনার অ্যাজমার রিভিউ নিবেন। সাক্ষাতটি সম্ভব না হলে যত দ্রুত সম্ভব সাক্ষাত আয়োজনের জন্য তাকে কল দিবেন। এটা আপনার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাথে আলোচনা করার একটি সুযোগ। দেখা গেছে, প্রতি ৬ জনের একজনের একবার জরুরী চিকিৎসা নেওয়ার ২ সপ্তাহের মাথায় আবার তা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।তাই সাক্ষাত বুক করা এবং যাওয়া খুব জরুরী।

২৫. অ্যাজমা অ্যাটাক কিভাবে এড়ানো যায়?

অনেক বিষয়/ব্যাপার আছে যা আপনাকে আপনার হাঁপানি আক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। যেমন –

(১) নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ গ্রহন করা।

(২) লিখিত হাঁপানি বা অ্যাজমা কর্মপরিকল্পনা অনুসরণ করা।

(৩) ডাক্তারের সাথে নিয়মিত হাঁপানি পর্যালোচনা করা।

(৪) ঠিকমতো ইনহেলার ব্যবহার করছেন কিনা তা ডাক্তারের সাথে পরীক্ষা করে দেখা।

(৫) যেখানে সম্ভব সেখানেই ঐসব জিনিস পরিহার করে চলা,যেগুলো হাঁপানির জন্য খারাপ।

(৬) আপনার হাঁপানি উপসর্গ পর্যালোচনা করা। সুতরাং, আপনি সতর্ক থাকুন যে যদি আপনার হাঁপানি উপসর্গ খারাপ হতে থাকে তাহলে আমাদের ‘Risk-Test’ পরীক্ষা করান, আপনার হাঁপানি আক্রমণের ঝুঁকি বের করার জন্য।

(৭) ধূমপান পরিহার করা।

(৮) আপনার ওজন একটি সুস্থ পর্যায়ে রাখা।অথবা যদি ডাক্তারের সাথে পরীক্ষার পর, ওজন কমানোর পরিকল্পনা আপনার জন্য উপযুক্ত হয় তাহলে ওজন কমানো।

 

২৬. অ্যাজমা যদি দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে থাকে তাহলে কি করা উচিৎ?

আপনি যদি নিম্নের সমস্যাগুলির সম্মুখীন হন:

আপনার নিবারক আপনাকে সাহায্য করছে না উপসর্গ থেকে মুক্তি দিতে,

আপনার উপসর্গগুলো আরো বেশি খারাপের দিকে যাচ্ছে (কাশি,শ্বাসকষ্ট, নিশ্বাস নিতে গেলে সাঁ সাঁ শব্দ হচ্ছে অথবা বুকে চাপা লাগছে),

আপনি কথা বলার সময়,খেতে অথবা ঘুমাতে যদি নিশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হয়,

যখন আপনার অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে, তখন এই উপসর্গগুশ্বাসনালীরলোই খুজতে হবে। এই লক্ষন ও উপসর্গ সাধারনত ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এবং খুব কমই হঠাত করে দেখা দেয় ।

এমন কি, কিছু অল্পসংখ্যক মানুষের শ্বাসকষ্টের উপসর্গগুলো দ্রুত দেখা দেয়।নিম্নের এই লক্ষন এবং উপসর্গগুলো খুজে দেখতে হবেঃ

  • ইনহেলার এর খুব বেশি প্রয়োজন হবে।
  • রাতে হাটতে গেলে কাশি হবে এবং নিশ্বাসে শব্দ হবে।
  • শ্বাস নিতে গেলে ঘাটতি হবে অথবা বুক চাপা এবং শক্ত মনে হবে।
  • পড়ালেখার অথবা সাধারন কাজের সময় সমস্যা হবে শ্বাসকষ্ট এর জন্য।
  • দ্রুত এবং দূর পর্যন্ত হাটতে না পারা, অথবা হাটার সময় শ্বাসহীন হয়ে পড়া।

যদি আপনার শ্বাসকষ্ট এর উপসর্গগুলো আরো খারাপ হতে থাকে অথবা আপনাকে যদি ইনহেলার অনেক বেশি ব্যবহার করতে হয়, তবে উপেক্ষা করবেন না এ বিষয়কে। খুব দ্রুত আপনার ডাক্তার অথবা শ্বাসকষ্ট বিশেষজ্ঞ নার্স এর সাথে যোগাযোগ করুন।

 

২৭. আমি ঔষুধ খেতে খুব অপছন্দ করি। এখন আমি কি করব?

কিছু মানুষ এটা মনে করে যে ইনহেলার নেয়াটি জীবনের জন্যে বাধা হয়ে দাড়াতে পারে। “এটাই যদি কেস হয়, অথবা আপনার শিশুর জন্যে হলেও আপনার উচিত এটা নেয়ার জন্যে কম সংহতিনাশক উপায় খুঁজে বের করা। উদাহরণস্বরূপ, আপনার সন্তান কে যদি এই ইনহেলার দেয়া একটি সংগ্রাম হয়, সেক্ষেত্রে আপনার ডাক্তার এটার বাইরে কিছু কৌশল সুপারিশ করতে সক্ষম হতে পারেন।” এটা যদি বেশি হয়, তাহলে এমনটা হতে পারে যে দিনে দুইবার এর বেশি ঔষধ নেয়া আপনার জন্যে অসুবিধাজনক হতে পারে। যদি আপনার হাঁপানি ভালোভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে আপনার ডাক্তার আপনাকে ঔষধটি দিনে একবার করে নিতে বলতে পারেন।

২৮. আমি যদি সুস্থ থাকি তাহলে আমার ঔষুধের প্রয়োজন আছে?

অ্যাজমার লক্ষন দেখা দিলে উপশমকারী ইনহেলার ব্যবহার করলে আবার সুস্থবোধ করবেন। সুতরাং অ্যাজমার লক্ষন উপশমে উপশমকারী ইনহেলারই ব্যবহার করতে হবে। এটা বেশ দ্রুত কাজ করে।

প্রতিরোধকারী ইনহেলারের কাজটা ভিন্ন, প্রাথমিক অবস্থায় লক্ষনের ঝুঁকি কমানো। শ্বাসনালীর জ্বলন ও ফোলা ভাব কমানোর জন্য এক ডোজ স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দিয়ে এটা তৈরী। এটার তাৎক্ষনিক কোনো প্রতিক্রিয়া না থাকলেও কালক্রমে তার একটি প্রতিরোধী ভূমিকা রয়েছে। এটা অ্যাজমা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শ্বাসকষ্টএর মত লক্ষন এবং উপশমকারী ইনহেলার নেবার প্রয়োজনীয়তা কমায়। প্রতিরোধকারী ইনহেলার গ্রহণ বন্ধ করলে শ্বাসনালীর প্রতিরোধ কমার পাশাপাশি মারাত্মক অ্যাজমাতে আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বাড়তে থাকে । একারনে প্রতিরোধকারী ইনহেলার নিয়মানুযায়ী নিয়মিত গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা উপশমকারী ইনহেলারের মত তাৎক্ষনিক অ্যাজমার লক্ষণগুলো প্রশম না করে বরং পর্দার অন্তরালে থেকেই শ্বাসনালীর সুরক্ষা ও সুস্বাস্থ্য এবং বাহকে সাড়াদানের ঝুঁকি কমানোয় কাজ করে । যদি উপশমকারী ইনহেলারের ব্যপারে কিছু জানার অথবা এটা গ্রহণে অভ্যস্ত হতে অসুবিধার সম্মুখীন হলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

More From ODOMMO

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...