অ্যাজমা সম্পর্কে!

অ্যাজমা একটি দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অবস্থা যা শ্বাসনালীর উপর প্রভাব ফেলে। আমাদের শ্বাসনালী হচ্ছে ছোট ছোট পাইপের মত যা ফুসফুসের ভিতরে বায়ু বহন করে ও আদান-প্রদান করে। কারও অ্যাজমা থাকলে এই নালীগুলোতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এবং তার যেই যেই জিনিসগুলোতে স্পর্শকাতরতা রয়েছে, সেগুলো কাছে এলেই এখানে প্রক্রিয়া বা প্রদাহ শুরু হয়ে যায়।

এরকম একটি শারীরিক অবস্থা আপনার স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বাধা ফেলবেই, তাই অ্যাজমা নিয়ন্ত্রন করতে এটি সম্পর্কে আপনার জেনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা আপনাকে সঠিকভাবে সাহায্য করতে পারে।

অ্যাজমা অ্যাটাক বলতে কি বোঝায়?

আপনার অ্যাজমা অ্যাটাক হয়েছে যদিঃ

  • আপনার অ্যাজমা নিরাময়কটি একেবারেই সাহায্য করছে না বা ৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করছেনা।
  • আপনার অ্যাজমাজনিত লক্ষণগুলো আরও তীব্র আকার নিচ্ছে (কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসের সাথে সাঁ সাঁ শব্দ বা বুক ব্যথা ইত্যাদি)।
  • আপনি শ্বাস নিতেই পারছেন না বা স্বাভাবিক কথা বলা, খাওয়া-দাওয়া, ঘুমাতে কষ্ট হচ্ছে।
  • আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস এত বেশি দ্রুত হচ্ছে যেন আপনি ঠিক মত নিঃশ্বাস গ্রহণ করতে পারছেন না।
  • আপনার এমন হলে সবার ঝামেলা হবে ভেবে চুপ থাকবেন না, রাত হলেও না।

অ্যাজমা কেন হয়? 

অ্যাজমা ঠিক কি কারণে হয় তা বলা জটিল। ভুক্তভোগীরা ভিন্ন ভিন্ন কারণে আক্রান্ত হতে পারেন। গবেষণায় দেখা যায়, আপনার অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি যদি:

অ্যাজমা
অ্যাজমা
  • বংশে অ্যাজমা বা কোনও এলার্জি থাকলে, যেমন এটা প্রমাণিত হয়েছে যে বাবা-মা কারোর অ্যাজমা থাকলে আপনারও অ্যাজমার ঝুঁকি রয়েছে।
  • আপনার এলার্জি থাকলে, যেমন হে ফিভার বা পরাগরেণুর কারনে এলার্জি।
  • শিশু অবস্থায় আপনার ব্রঙ্কিওলাইটিস (একটি সাধারণ শিশুকালীন ফুসফুসের ইনফেকশন) হয়ে থাকলে।
  • আপনি প্রিমেচিউর শিশু হয়ে থাকলে, বিশেষত জন্মের পরে ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাস নিয়ে থাকলে।
  • জন্মের সময় আপনার ওজন মাতৃগর্ভে সাধারণ হারে বৃদ্ধি না হওয়ায় কম থাকলে (এটা বিভিন্ন কারণে হতে পারে)।
  • আপনি গর্ভে থাকা অবস্থায় আপনার মা ধূমপান করে থাকলে। গবেষণা অনুযায়ী, গর্ভবতী অবস্থায় ধূমপান সন্তানের অ্যাজমার ঝুঁকি অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয়।
  • আপনার বাবা-মা ধূমপায়ী হয়ে থাকলে (বা আপনার শৈশবকালে তাদের ধূমপানের অভ্যাস থাকলে)।
  • আপনার ধূমপায়ীদের সাথে চলাফেরা থাকলে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রত্যক্ষ ধূমপানে অ্যাজমা বিকাশ লাভ করে।

অ্যাজমা অ্যাটাক করলে কি করব?

অ্যাজমা অ্যাটাক হলে নিচের গাইডলাইনগুলো অনুসরণ করতে হবে। এগুলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্যই উপযোগী এবং অ্যাজমা অ্যাটাকে করণীয় পদক্ষেপঃ 

  • সোজা হয়ে বসুন- কোনোভাবেই শুয়ে পড়বেন না। নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করুন।
  • প্রতি ৩০-৬০ সেকেন্ড আপনি ইনহেলারের ওষুধ একবার করে গ্রহণ করুন, এভাবে সর্বাধিক ১০ বার গ্রহণ করুন।
  • অ্যামবুলেন্স আসতে ১৫ মিনিটের বেশি সময় নিলে, আপনি দ্বিতীয় ধাপটি পুনরায় করে দেখতে পারেন।

  • ইনহেলার ব্যবহারের সময় আরও খারাপ লাগলে অথবা ১০ বার শ্বাস নিয়েও অবস্থার উন্নতি না হলে বা বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলে, অ্যামবুলেন্স ডাকুন।

উপরের গাইডলাইনগুলো শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্যই উপযোগী।

Contributor: Sanzeeda Munir Prova

University of Dhaka

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago