এইডসঃ লজ্জার চেয়ে বাঁচা জরুরি (পর্ব-১)

এইডস কি?

এইডস নিয়ে কথা বলার আগে আসলে এটি জানা জরুরি যে এইডস কি?

AIDS এর পূর্ণ রূপ: Acquired Immuno Deficiency Syndrome

এটি আসলে HIV (human immunodeficiency virus) নামক একটি ভাইরাসের সংক্রমণের চূড়ান্ত পর্যায়। এই ভাইরাস মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে ধ্বংস করে দেয়। যা ফলে মানুষ যেকোনো ধরনের সাধারন ভাইরাসের দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। এবং বোঝাই যাচ্ছে যার পরিণতি মৃত্যু। এইডসের এখনো কোনো স্থায়ী চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি যার দ্বারা এটি পুরোপুরি নিরাময় করা যায়। সুতরাং এটি পরিষ্কার যে এইডস একবার হয়ে গেলে তেমন কিছুই করার থাকবে না। তাই এটি নিয়ে খুব বেশী পরিমানে সচেতনতার প্রয়োজন যাতে কোনোভাবেই এর ভাইরাস (HIV ভাইরাস) দেহে প্রবেশ করতে না পারে।

 

কিছু পরিসংখ্যানঃ

১) ১৯৮১ সালে ভাইরাসটি আবিষ্কারের পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এইডস রোগ কারনে ২ কোটি ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ মারা যায়। 

২) পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.৬% এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত

৩) ২০০৫ সালে এইডস ২২ থেকে ৩৩ লক্ষ মানুষের জীবন কেড়ে নেয় যার মধ্যে ৫ লক্ষ ৭০ হাজারের ও বেশি ছিল শিশু।

৪) ২০১০ পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রায় ২৫ লক্ষ লোক এইডসে আক্রান্ত। মায়ানমারে এই সংখ্যাটা ২ লক্ষ ৪০ হাজার এবং চীনে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার।

৫) বাংলাদেশের এক হিসেবে অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ৩,৬৭৪ জন ব্যক্তি এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত; আর ঝুঁকিতে আছে আরো প্রায় ১৪,৩০০ জন।

 

কেন এত কিছু বলা?

প্রশ্ন হলো কেন বলছি এতকিছু? কারন আমাদের দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ি পূর্বের চেয়ে প্রায় ৬০% বেড়ে গেছে। যার পিছনে অনেকাংশে দায়ী আমাদের জ্ঞানহীনতা, যৌনতার জ্ঞানকে এখনো একটা অত্যন্ত গোপনীয় বিষয় হিসেবে দেখা।

আমাদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের বাংলা বইয়ে হুমায়ুন আহমেদ স্যারের একটা লেখা ছিলো এই এইডস নিয়ে “অপরাহ্ণের গল্প” নামে। যেখানে তিনি বলেছিলেন যৌনশিক্ষাটা আমাদের দেশে ট্যাবু(ঘোরতর নিষিদ্ধ বিষয়) বানিয়ে রেখেছি আমরা। বাইরের দেশে যেখানে একাডেমিক কারিকুলামে এই শিক্ষা দেয়া হয় সেখানে আমাদের দেশে আমরা এই শব্দটি শুনলেই আশে পাশে উপস্থিত শিশুটির কান চেপে ধরি। আর ভাবি “হায় হায়, কিছু শুনে ফেললো না তো?” যেখানে এইসব সাধারন শিক্ষাটা আমাদের পরিবার থেকে পাওয়ার কথা ছিলো সেখানে আমরা শিক্ষাটা পাই বন্ধু বা স্কুলের সামান্য সিনিয়ির কারো থেকে। বাবা-মা এই বিষয়টিকে আমাদের কাছে নিষিদ্ধ করে রাখেন।

এইডস নামটি শুনলেই প্রথম সন্দেহ আমাদের ছোটে যৌনতার দিকে। অথচ যৌনতা ছাড়াও রক্ত গ্রহণ, জীবাণু যুক্ত সিরিঞ্জ, আক্রান্ত মায়ের দুধও রোগটির বিস্তারের জন্য সমানভাবে দায়ী। কিন্তু আমরা এইডসকে সেই যৌনতার মধ্যেই আবদ্ধ করে রাখি।

এইডস প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হবে এই রোগ সম্পর্কিত যথাযথ জ্ঞান পাওয়া। বাঁচার জন্য আমাদের জানতে হবে এইডস কি? কেন হয়? কিভাবে হয়? তাই আমাদের সকলের উচিত বিষয়টিকে যৌনতার নিষিদ্ধতায় আটকে না রেখে এটি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা, আমাদের নিজেদের করণীয় ঠিক করে নেয়া যাতে কোনভাবেই আর এইডস ছড়িয়ে না পড়ে। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিরাপদ হোক আমাদের সচেতনতায়।

 

Contributor: Zobair Hossain Mahfuz

Institute of Education & Research (IER)

University of Dhaka

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago