ওজন কমানো নিয়ে যত কথা!!

আজকাল প্রায়ই শোনা যায় “ডায়েট এ আছি, এটা খাব না, ওটা খাব না “।

আশেপাশের সবাই মোটামুটি এই কথাই বলছেন তাহলে সাফল্যের গল্প এর অংকটা এত কম কেন? শেষ পর্যন্ত তাদেরই কারো মুখে শুনতে পাই: ” আমি খেলেও মোটা, না খেলেও মোটা, ডায়েট করে লাভ কি? “

পত্র-পত্রিকায় আমরা যেসব নায়ক – নায়িকাদের ছবি দেখে মনে মনে টিপ্পনী কাটি, ইশ! মনে হয় নেশা করে এত শুকিয়েছে নাহলে এত ওজন কি করে কমে? আর না হলে নিশ্চই সার্জারী।

কেন পারছিনা তাহলে আমরা? এত না খেয়ে দেয়ে কসরত করেও কেন বারবার বিফল হতে হচ্ছে? প্রথমেই আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে কয়েকটি ভুল কে চিহ্নিত করি আসুন। ধরুন আপনি মহা উৎসাহ নিয়ে ডায়েট শুরু করেছেন, ভাগ্যক্রমে সেদিনই বাসায় বিরাট আয়োজন, বিরিয়ানি কাবাব, মিষ্টান্ন। আর আপনি সকাল থেকে খেয়ে আছেন সেদ্ধ সবজি,ওটস আর ফলমুল।

মেহমানরা খেতে বসার পর আপনাকেও ডাকাডাকি করে বসিয়ে পাতে বিরিয়ানি তুলে দিয়ে বললেন: “আরে একদিন খেলে কিচ্ছু হবেনা, খাও তো।”

এমনিতেই মনটা আকুপাকু করছিল সাথে বাহ্যিক চাপে ব্রতটা ভেংগে খেয়েই ফেললেন। খাওয়া শেষে একটু ড্রিনক্স না পান করলে কি চলে? তারপর কোন একদিন সকাল বেলা ঘুম টা সময় মত ভাংলোনা, তড়িঘড়ি করে ক্লাসের জন্য রওয়ানা দিলেন সকালের জন্য নির্দিষ্ট ওটমিল টা খাওয়া হল না। ক্লাসের ফাকে ভার্সিটির ছোট দু খানা সিংগারা খেয়ে নিলেন ক্ষুধার তাড়নে। ভাবলেন কেবল তো ছোট দুটা সিংগারা এ আর কি ক্ষতি করবে?

মনস্থির করলেন শুধু ডায়েট না ওয়ার্ক আউটও করবেন, সকালে উঠে ওয়াকের জন্য বের হবেন তখনই মা বললেন বাহিরে যাবার কি দরকার বাসার করিডোর টা তে ২০ বার রাউন্ড দে, হয়ে যাবে (!)। হয়ত আপনি মায়ের কথা মেনে নিলেন অথবা ধরে নিলাম আপনি রাস্তায় নামলেন ঘড়ি ধরে ১ ঘন্টা হাটলেন, হ্যাঁ! ওজন কমাতে রোজ ১ ঘন্টাই হাটার কথা তো শোনেন সবার কাছে। অবশেষে মাস শেষে অনেক উৎসুক হয়ে ওজন মাপলেন। ওজন মেশিন আপনাকে অবাক করে দিল দেখলেন ওজন ব্যাটা তো কমেই নি উল্টা বেড়ে গেছে ২ কিলো!!

আসলে কেন এমন হল?

একটু যুক্তি দিয়ে বিচার করলে আপনারই গাফিলতি স্পষ্ট হবে। রোজ এক ঘন্টা হেটেছেন ঠিকই কিন্তু তা কতটুকু জায়গায়? বা কত দ্রুত? একজন মানুষের পক্ষে ১ ঘন্টায় ৬-৭ কি.মি ও হাটা যায় আবার ১ কি.মি পুরো হাঁটাও হয়না কারো কারো। ওজন ও শারীরিক গড়নের ঊপর নির্ভর  করে দৈনিক  ৩-৬ কি.মি ৩০-১৫ মি./কি.মি বেগে হাটা উচিৎ। আর আপনি হয়ত বাসার করিডোর এ বা গলির এ মাথা ও মাথা ১ ঘন্টা ধরে চক্কর দিয়েই ধরে নিয়েছেন অনেক কসরত করা হয়ে গেল। আর ওই যে মাঝে মধ্যই সিংগারা বা ফুচকা খেয়ে ফেলেছেন আর বাড়ি এলে মায়ের চাপাচাপিতে পড়ে একটু কসানো লাল মাংস দিয়ে পোলাও বা খিচুড়ি খেয়ে ফেলেছেন, সেটি পারে সারাদিনের মেটাবলিজম কে উলট পালট করে দিতে।

ছোট্ট ছোট্ট আলুর সিংগারা গুলো দেখতে যতই নীরিহ মনে হোক না কেন তারা বাজারের ডাল্ডা মেশানো পোড়া তেলে ডুব দিয়ে এসেছে আপনার এত্ত কষ্টের ডায়েট টা কে বরবাদ করার জন্য এইটা একাই যথেষ্ট।একটি সিংগারায় থাকে ১৫০-২৫০ ক্যালরি সারাদিন এর শর্করার চাহিদা পূরণ করে দেয়। কিন্তু আপনি দুপুরে নিয়ম মাফিক এক কাপ ভাত খেলেন এই ২০০ করে ৪০০ ক্যালরিঈ আপনার পুরো রুটিন টাকেই নষ্ট করে দিল।এইভাবে কখনো ভাজাভুজি, কখনো ফুচকা-চটপটি খেয়ে ফেললে মাস শেষে ওজন তো বাড়বেই।

কি করবেন?

ডায়েট করুন বুঝে-শুনে, হিসেব করে। কেবল নিজেকে খাবার এর স্বাদ থেকে বঞ্চিত রাখার মানেই ডায়েট নয়। আপনার শারীরিক গড়ন, দৈনিক কাজ করার পরিমান, জীবন-যাপনের পদ্ধতি ইত্যাদি মিলিয়েই আপনার জন্য প্রয়োজন একটা ডায়েট চার্ট ও ওয়ার্কআউট রুটিন। যা একজন খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ এর পরামর্শ নিয়েই শুরু করা উচিৎ।

এই যাত্রায় আপনার সহায়ক হিসেবে দারুন কাজ করবে ইন্টারনেট। আপনি ফেসবুক এ বিভিন্ন ফিটনেস গ্রুপের সাথে যোগ হয়ে পেতে পারেন অনুপ্রেরণা সহ ডায়েট সংক্রান্ত নানান তথ্য। ইউটুবের ফিটনেস ভিডিও দেখে পেতে পারেন বিভিন্ন দিক নির্দেশনা।

প্রতিদিনের ডায়েটের সঙ্গী বানিয়ে নিতে পারেন:

  1. মাই ফিটনেস প্যাল (My Fitness Pal)
  2. এণ্ডোমোণ্ড (Endomondo)
  3. ট্রেকার অ্যাপের (Tracker App) মত অনেক অ্যাপস।                                                                                                  

এইগুলো ব্যবহারে আপনি দৈনিক কত ক্যালরি খাচ্ছেন, কতটুকু ক্যালরি বার্ন করলেন এইসবের হিসেব রাখতে পারবেন। এভাবে বুঝে শুনে ডায়েট করলে ওজন কমতে বাধ্য।

 

Contributor: Fareha Lahareen

Institute of Education and Research (IER)

University of Dhaka

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago