কফি খেয়েই মেদ কমান!

 

বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে অতিরিক্ত ওজন আমাদের অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যার সৃষ্টি করে। যেমন- ডায়াবেটিকস, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি। ওজন কম রাখা স্বাস্থ্যের জন্য এবং সুস্থ থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বলার চেয়ে ওজন সত্যি সত্যি কমানো অনেক কঠিন। ওজন কমানোর জন্য শুধুমাত্র খাওয়ার অভ্যাস নয় বরং সম্পূর্ণ জীবন যাপনের ধারা পাল্টানো জরুরী। যেমন অনেকে শখ করে বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে বা অফিসের পার্টি কিংবা বলা যায় বিয়েতে প্রচুর খেয়ে থাকেন। এইসব অভ্যাসের কারনে পরবর্তীতে ডায়েট করার সময় মুখ সামলানোটা কঠিন হয়ে পরে। আবার অনেকে দেখা যায় ঝাঁপিয়ে পরে ডায়েট করে থাকেন ওজন কমানোর জন্য, কিন্তু পরে দেখা যায় আসলে ওজন কমার পরিবর্তে আরো বেড়ে গেছে। আসলে  নিয়ম মেনে চললে পেট ভরে খেয়ে, জিমে না গিয়েও ওজন কমানো যায়।

এজন্য একটি খুবই চমকপ্রদ পানীয় রয়েছে যেটা আপনাকে কোনো রকম কষ্ট ছাড়াই ওজন কমাতে সাহায্য করবে। এবং এটি আপনি আপনার ঘরে বসেই অত্যন্ত সহজে বানাতে পারেন। এই পানীয় বানাতে আপনার যা যা লাগবে তা হলো-

  • ১ কাপ পানি
  • ২ টেবিল চামচ মধু
  • ১ টেবিল চামচ দারুচিনি
  • ১ টেবিল চামচ নারিকেল তেল।

পদ্ধতিটি খুবই সহজ। শুধুমাত্র সবগুলো উপাদানকে একসাথে মিশিয়ে নিন ভালো করে। এবার এই মিশ্রণটির অর্ধেক রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এবং বাকী অর্ধেক ঘুম থেকে উঠার পর খালি পেটে পান করুন। মাত্র সাতদিন এটি করে দেখুন। হাসতে হাসতে আপনার ওজন ২-২.৫ কেজি কমে যাবে।

 

কিন্তু এটি কিভাবে সম্ভব?

এই তরল পানীয়টি আসলে আপনার মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়া কে অনেক দ্রুত করার মাধ্যমে আপনার চর্বি কমানোর কাজ করে। এইজন্য সবচেয়ে বেশী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে দারুচিনি। দারুচিনিতে এক বিশেষ উপাদান থাকে যেটি মানুষের দেহের তাপ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ায় এবং চর্বি গলানোর মাধ্যমে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক তাপমাত্রা ফিরিয়ে আনে। এছাড়াও দারুচিনি মানুষের ক্ষুধা কমিয়ে দেয়, যার কারণে সারাদিন এমনিতেই কম খাওয়া হয়। শুধু তাই নয়, রক্তে স্যুগারের  মাত্রা কমিয়ে এটি ইনসুলিন উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় যেটি পরবর্তীতে চর্বির কোষকে ভেঙে দেয়।

অদ্ভুত না? সামান্য একটা জিনিষ একাই এতকিছু করে ফেলে।

আবার মধুও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানীয়। এটি প্রচুর পরিমানে অ্যামিনো এসিড, ভিটামিন এবং মিনারেল বহন করে। প্রকৃত অর্থে মধু সাধারন চিনির চেয়ে অনেক আস্তে দেহে প্রবেশ করে এবং বিপাক ক্রিয়াতে খুব সাহায্য করে।

নারিকেল তেল একট ধরনের চর্বি। কিন্তু এটি আসলে এক ধরনের উপকারী চর্বি। এটি একটি মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি এসিড যা কিনা সরাসরি আমাদের যকৃতে চলে যায় এবং দেহের শক্তি উৎপাদন করে বা কিটোন বডিতে রূপান্তরিত হয়।

 

পরিশেষেঃ

আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার এই পানীয়টি ব্যবহার করে দেখা উচিৎ। যদি আপনার এভাবে খেতে ভালো না লাগে তাহলে সকালের কফিতেই উপাদানগুলো মিশিয়ে নিন। এটি কফির শুধু স্বাদই বাড়াবে না বং এটি আপনার দেহের চর্বি পুড়িয়ে আপনাকে ওজন কমাতেও সাহায্য করবে। কফি ইতোমধ্যেই বিপাক ক্রিয়া বাড়ানোর জন্য এবং প্রাকৃতিক ভাবে ক্ষুধা কমানোর জন্য বহুল পরিচিত। সত্যিকার অর্থে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিনের খাবারে প্রচুর ফলমূল এবং সবজি থাকা উচিৎ এবং সেই সাথে নিয়মিত ব্যায়াম। সুস্থ থাকুন প্রতিদিন।

 

Contributor: Zobair Hossain Mahfuz

Institution of Education and Research (IER)

University of Dhaka

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago