গরমকালে সুস্থ থাকার উপায়!

গরমকালে অল্প কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলেই সুস্থ থাকা সম্ভব। সেই সাথে Dehydration, Heat Stroke এর মত রোগ থেকেও রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এই গরমে কি কি করলে শরীর ভাল থাকবে তা লক্ষ্য করিঃ

১। এই গরমে সুস্থ থাকার জন্য প্রচুর তরল জাতীয় খাবার পান করা দরকার। অবশ্যই অনেক পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করুন।  সাধারন পানি পান এর সাথে সাথে ডাবের পানি, নানা রকমের ফলের জুস যেমন আম, তরমুজ, আখের রস পান করুন। এ সময় বাড়িতে স্যালাইন অথবা গ্লুকোজ রাখুন। কারণ এগুলো শরীরে পানিশূন্যতা কমিয়ে শরীরে লবণের পরিমান ঠিক রাখতে সাহায্য করে। সঠিক পরিমান এ পানি পান করলে শরীর জলযোজিত (hydrated) থাকে। কারন সূর্যের তাপ এর ফলে এবং প্রতিদিনকার নিয়মিত কাজের ফলে ঘাম হয়। ঘামে অ্যামোনিয়া এবং ইউরিয়া রয়েছে, যা মানুষের শরীর দ্বারা উৎপাদিত হয় যখন এটি আমাদের দেহের খাবার থেকে প্রোটিন ভাঙ্গে। ঘামে রয়েছে চিনি এবং লবণ যেমন সোডিয়াম, ক্লোরাইড এবং পটাসিয়াম। ঘাম এর ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। অনেক সময় পানি শূন্যতা ও Heat Stroke দেখা দিতে পারে। তাই শরীর জলযোজিত রাখার জন্য গরমে তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে।

২। গরম এ আরামদায়ক পোশাক পরতে হবে। পোশাক এর ক্ষেত্রে হালকা রঙ পরাই ভাল। কালো বা উজ্জ্বল জাতীয় রঙ সূর্যের তাপ শোষণ করে বেশি ফলে গরম লাগে বেশি। এছাড়াও পাতলা কাপড় যেমন সুতি কাপড় পরার চেষ্টা করতে হবে। কাতান, টিস্যু, জর্জেট এই ধরনের কাপড় যথা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। মোটা কাপড়ে অস্বস্তি বোধ হবে গরমে। টাইট কাপড় না পরে যতোটা সম্ভব ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করুন। শরীরের ঘামে আপনার পরিধিত জামা বা ড্রেস ভেজা থাকলে ঘামাচি বাড়তে পারে তাই ঘামে ভেজা কাপড় পান্টে নিতে পারেন।

৩। অ্যালকোহল , ক্যাফিন বা প্রচুর চিনি থাকে এই ধরনের তরলগুলি এড়িয়ে চলুন কারণ এইগুলো শরীর থেকে তরল পদার্থ তাড়াতাড়ি বের করে দেয়। এছাড়াও, খুব ঠান্ডা পানীয়, বরফ ক্রিম এড়িয়ে চলা উচিত তা না হলে পেট এ সমস্যা হতে পারে।

৪। গরমকালে একাধিক বার গোসলের অভ্যাস গড়ে তুলুন। একাধিক বার না হলেও অন্তত একবার গোসল করা উচিত। এতে ঘাম এর সাথে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য রোগ জীবাণু শরীর থেকে চলে যায়।

৫। ক্ষতিকারক UV RAY থেকে চোখ রক্ষা করার জন্য সানগ্লাস ব্যবহার করুন। এক জোড়া ভাল সানগ্লাস শুধু একটি ফ্যাশন আনুষঙ্গিকই নয়, এটি আপনার চোখ রক্ষা করবে।

৬। বাইরের কার্যকলাপের জন্য জুতা নির্বাচনে সচেতন হতে হবে। খোলামেলা জুতা পরা উচিত। এতে পায়ে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং পায়ে ঘাম হয় না। এতে শরীর ঠান্ডা থাকে। গরম এর মধ্যে বন্ধ জুতা পরলে যেমন অস্বস্তি বোধ হয় তেমনি পায়ে বাতাস চলাচল না করতে পারায় ঘাম হয়। এ সময় কখনো মোজা পরা উচিত নয়।

৭। Junk food যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত তেল যুক্ত খাবারও এই সময় এড়িয়ে চলা উচিত। কারন ভারী খাবার খেলে এই সময় অতিরিক্ত গরম লাগবে এবং শরীর খারাপ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। বেশি বেশি ফলমূল এবং শাঁক সবজি খেতে হবে। এতে শরীর  হালকা ও সুস্থ থাকবে।

৮। বাইরে বের হওয়ার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে UV RAY থেকে বাঁচার জন্য Sun Protectin Cream লাগাতে হবে। ফলে আপনার ত্বক রোদে পোড়া থেকে রক্ষা পাবে। এছাড়াও বের হওয়ার সময় ছাতা নিয়ে বের হতে হবে। ফলে সূর্যের তাপ সরাসরি গায়ে লাগবে না।

৯। ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণ বাতাস যেন চলাচল করে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঘরের দরজা জানালা খোলা রাখুন। তাহলে ঘর ঠাণ্ডা থাকবে।

১০। গরমে বাইরে থেকে এসেই সাথে সাথে ঠাণ্ডা পানি পান করা উচিত না। বাইরে থেকে এসে ঘাম শরীরে নিয়ে বসে থাকা উচিত না। হাত মুখ ধুয়ে ঘাম মুছে কিছুক্ষন বিশ্রাম করা দরকার।

উপরের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখলে গরম থেকে কিছুটা হলেও নিস্তার পাওয়া সম্ভব।

 

Contributor: Tamrin Afroz Zilani

North South University

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago