চিকুনগুনিয়ার ব্যথা কি সারবেনা?

 

ইতোমধ্যে সংবাদমাধ্যমের কল্যাণে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলে শারীরিক অবস্থা কেমন হতে পারে তা সকলেই কম বেশি জেনে গেছেন। কিন্তু এর তীব্র ব্যথা পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোথাও তেমন একটা উচ্চারিত হয়নি। আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনামত চিকুনগুনিয়ার  পরবর্তী করণীয় বিষয়গুলো আলোকপাত করবো।

 

চিকুনগুনিয়া রোগের প্রধান উপসর্গ হলো প্রচণ্ড জ্বর যা ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে থাকে পাশাপাশি প্রচণ্ড ব্যথা যা ব্যক্তি বিশেষে ভিন্ন ভিন্ন কারও কারও ক্ষেত্রে সারা শরীর ব্যথা এবং কারও বা হাত ও পায়ের জয়েন্টগুলোতে ব্যথা।

এ জ্বরের তীব্রতা তিন থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কমে গেলেও ব্যথা বেদনায় কষ্ট পাচ্ছেন আক্রান্ত ব্যক্তিরা। এ ব্যথা-বেদনা দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা জ্বর-পরবর্তী আথ্রাইটিস বা জয়েন্টের প্রদাহজনিত ব্যথায় ভুগছেন। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের অনেকগুলো জয়েন্টগুলোতে ব্যথা হয়।  এক্ষেত্রে  রোগীর হাত ও পায়ের আক্রান্ত জয়েন্টগুলো ফুলে যায়, নাড়াতে কষ্ট হয়, সকালে ঘুম থেকে উঠতে অনেক কষ্ট হয়। এইসব সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে নিম্নলিখিত পদ্ধতি ব্যথা উপশমে কাজে দিবে।

 

করণীয় :

১. আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ দিয়ে সেঁক দিতে পারেন, টাওয়েল বা সুতি কাপড়ের মধ্যে বরফ নিয়ে আক্রান্ত স্থানে ৫-১০ মিনিট দিনে ২-৩ বার ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন, কারণ এতে প্রদাহ কমে ব্যথা কমে যাবে তবে খেয়াল রাখতে হবে সরাসরি বরফ যেন চামড়ায় লাগানো না হয় সেক্ষেত্রে ফ্রস্ট বাইট বা আইস বার্ন হতে পারে।

২. যেহেতু জ্বরের কারণে শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয় তাই প্রচুর পরিমাণে ওরস্যালাইন, ডাবের পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।

৩. এ ধরনের জ্বরে যেহেতু এসপিরিন বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়, তাই ব্যথা কমানোর জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিরাপদ ও কার্যকরী পদ্ধতি। এক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর বর্তমান  অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন রকম চিকিৎসা নির্ধারণ করে থাকেন যেমন-ইলেকট্রোথেরাপি, ওয়াক্স বাথ থেরাপি।

৪. মাংস পেশীর তীব্র ব্যথায় ট্যালকম পাউডার বা সামান্য তেলে হালকা ম্যাসাজ করা যেতে পারে। ম্যাসাজের ফলে ওই স্থানের রক্ত চলাচল বেড়ে ব্যথা কমবে। তবে বল প্রয়োগে ও দীর্ঘ সময় ম্যাসাজ করা থেকে বিরত থাকুন। এর ফলে সফট টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।
৫. হাল্কা স্ট্রেচিং বা পেশীর দৈর্ঘ বরাবর খুব সহনশীল চাপে হাত-পা সম্প্রসারণ করে টানটান করা।
৬. পেশীতে কম্পন, হাত বা ভাইব্রেটর দিয়ে কম্পন প্রয়োগে পেশীকে রিলাক্স করে দেয়া যেতে পারে।

 

এছাড়াও চিকুনগুনিয়ার ব্যথা নিরাময় ও শারীরিক অক্ষমতা প্রতিরোধে ১৫টি সেবাকেন্দ্র চালু করেছে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন। সেবাকেন্দ্রগুলোতে রোগীরা বিনা মূল্যে পরামর্শ এবং কম মূল্যে বা বিনা মূল্যে দীর্ঘমেয়াদি ফিজিওথেরাপি সেবা পাওয়া যাবে।

নিচের এসব ঠিকানায় সেবা দেওয়া হচ্ছে:

গুলশান-বিপিএইচ কেয়ার, বাড়ি নম্বর ১৫, রোড-৭, গুলশান-১,(০১৭৯০২৬৭৩৫৯);

মুভমেন্ট সলিউশন, গুলশান-২, (০১৬৭১১৬১৬৯৮);

বিএসপিসি, বাড়ি নম্বর ৫২, রোড ১৫, ব্লক ডি, বনানী, (০১৭৯০২৬৭৩৫৯);

ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, বাড়ি নম্বর ১২/১, রোড ৪/এ, ধানমন্ডি, (০১৭৮৭১০৬৭০২);

দনিয়া মেডিহোপ ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, (০১৭১১৩৪৪০৬৮),

হলি কেয়ার স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি সেন্টার, চট্টগ্রাম রোড, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, (০১৯৭৭৩৪৪০৬৮);

মেজবাহ ফিজিওথেরাপি সেন্টার, শাহজাহানপুর, বাসাবো (০১৭১২৫৪৮৭৭৫);

বিপিএ অফিস, মিরপুর-১০ (০১৭১২৮০১২৩৪);

ফিজিওথেরাপি ডিপার্টমেন্ট, ক্রিসেন্ট হাসপাতাল, রবীন্দ্রসরণি, উত্তরা (০১৭১১২২৮৫০৪);

লুবানা ফিজিওথেরাপি সেন্টার, লুবানা জেনারেল হাসপাতাল, গরিবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ, সেক্টর ১৩, উত্তরা (০১৮১৭৫৭৩১৪৭);

পিটিআরসি ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড ফিটনেস সেন্টার, বাড়ি ৪৭, রোড ৭, সেক্টর ৪, উত্তরা (০১৭১৮১১২৯৮৭);

পিএডিটি, বাড়ি ১৮, রোড ২৭, সেক্টর ৭, উত্তরা (০১৬৭২৮৮৫৫০১);

আরপিআরসি, বাড়ি ১, রোড ৭, ব্লক-এইচ, বনশ্রী, রামপুরা (০১৬৮২৪০৯২০৯);

ইউকে ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, ২৫ রিং রোড, আদাবর, মোহাম্মদপুর (০১৭১২৫২২২১৫);

আমিন ফিজিওথেরাপি সেন্টার, ধূপখোলা, গেন্ডারিয়া;

ফিরোজা বারি ডিজঅ্যাবলড হসপিটাল, ২২/১ তোপখানা রোড, প্রেসক্লাবের বিপরীতে (০১৭১১৩৭১২৪৯)।

 

Contributor: ODOMMO Team

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago