পুরুষের থেকে নারীর অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি!

সকালে দেখলাম সাবরিন বেশ নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাচ্ছে আর তার চেয়েও নিশ্চিন্ত মনে ঘুমাচ্ছে আমাদের পোষা বেড়াল পুফি। সাবরিনের রুমের কার্পেটই যেন ওর রাজ্য। সাবরিনকে দেখে নিজের রুমে যাব দেখি মা রাগে গজরাচ্ছেন আর তেলাপোকার গুষ্ঠি উদ্ধার করছেন। মা’র এই রূপ দেখে হাসি থামাতে পারলাম না। বড় দিনের ছুটিটা গল্পের বই পড়েই কাটিয়ে দিব এই ভাবনায় মগ্ন হয়ে যেই বইয়ের পাতা উল্টালাম তখন কানে এলো মায়ের চিৎকার। তাড়াতাড়ি দরজা খুলে বের হয়ে দেখি বাবা চিন্তিত মুখে সাবরিনের রুমের দিকে যাচ্ছে আর কাকে যেন ফোন দিচ্ছে।

‘সাবরিনের আবার অ্যাটাক হল না তো!’ এই দুশ্চিন্তা নিয়ে তাড়াতাড়ি ওর রুমে গিয়ে দেখি যা ভেবেছিলাম তা-ই, তবে এবারের অবস্থা আগের চেয়েও ভয়াবহ; এবার ইনহেলার দিয়েও কোন লাভ হচ্ছে না। মা তো কান্নাকাটি করা শুরু করেছেন। আর করবেন না-ই বা কেন! অ্যাজমার সময় সাবরিনের কষ্ট সহ্য করা যায় না। “এটা বংশগত। মায়ের আছে। তাই ছোট বোনটাকে নিয়ে টেনশন লাগে।”

বাবা এসে বললেন, “ডাক্তারের সাথে কথা হয়েছে, উনি বলেছেন এখনই ক্লিনিকে নিয়ে যেতে। মফস্বল হলেও আমাদের বাড়িটা ঠিক প্রধান সড়কের কাছেই। ধূলা-বালির একটা সমস্যা লেগে থাকলেও যাতায়াত করাটা বেশ সুবিধার। তাই আর দেরি না করে সাবরিনকে নিয়ে চললাম ক্লিনিকে।  কিন্তু, মনটা তা-ও সাবরিনকে নিয়ে চিন্তায় ভারী হয়ে আছে। যত দিন যাচ্ছে ওর অ্যাটাক যেন ততই বাড়ছে আর ততই ভয়ংকর রূপ ধারণ করছে। বিশেষ করে, শীতকালে ওর অবস্থা খুবই খারাপের দিকে চলে যায়। আমাদের খালাতো ভাই রাতুলেরও অ্যাজমা আছে কিন্তু ওরটা সাবরিনের মতো বাড়ছে না বরং দিন দিন ভালোর দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সাবরিন……, ‘আহ্‌! আর নয়, এবার সাবরিনকে ঢাকায় নিয়ে ভালো ডাক্তার দেখাব’- এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম যেই ভাবা সেই কাজ, সাবরিনকে নিয়ে এখন আমি বসে আছি একজন প্রখ্যাত চিকিৎসকের সামনে। তিনি সাবরিনকে পরীক্ষা করে ওষুধ দিচ্ছিলেন তখন আমি আর নিজের কৌতূহল সামলাতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম রাতুল আর সাবরিনের বিপরীত অবস্থার কথা এবং এর সাথে সাবরিনের নারী হওয়াতে কোনো পার্থক্য সৃষ্টি হচ্ছে কি-না সে কথা।

শুনে ডাক্তার বললেন, “আপনি একদম সঠিক কথা বলেছেন, ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অ্যাজমা (Asthma) বেশি হয়ে থাকে। এর অন্যতম একটি কারণ হল নারীদেহে থাকা হরমোন এস্ট্রোজেন । এস্ট্রোজেন প্রত্যক্ষভাবে কিছু না করলেও এর কারণে হরমোন লেভেলে যে উঠা-নামা হয়, তা অ্যাজমার জন্যে অনেকাংশে দায়ী। এছাড়াও নারীদের শারীরিক কাঠামো পুরুষদের চেয়ে খাটো হওয়ায় তাদের ফুসফুস যেমনি আকারে ছোট তেমনি ব্রংকিওল নালীও সংকীর্ণ। অনেকের মতে এটাও নারীদের বেশি অ্যাজমা প্রবণতার জন্যে দায়ী। শুধুমাত্র শারীরিক কাঠামো দায়ী এটা ভাবতে আমার একটু অবাক লাগায় চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম যে এ ছাড়াও আর কোনো কারণ থাকতে পারে কি না। তখন চিকিৎসক সাবরিনকে জিজ্ঞেস করলেন সে বেশি দুশ্চিন্তা করে কি না আর দিনের বেশিরভাগ সময়ই ঘরে কাটায় কি না। সাবরিনের দু’টি জবাবই হ্যাঁ হওয়ায় ডাক্তার আবার বলা শুরু করলেন যে, “আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে মেয়েরা যেহেতু বেশিরভাগ সময়ই ঘরেই কাটায় ফলে রান্নার ধোঁয়া, ধূলা-বালি, কার্পেট এমনকি তেলাপোকা অ্যাজমার অনুকূলে কাজ করে। শুধু তা-ই নয়, গাছ-পালা, পরাগরেণু, পারফিউম এবং বাসায় কোনো পোষা প্রাণি থাকলে তার পশম থেকেও অ্যাজমা হতে পারে। আর অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাও অ্যাজমাকে বাড়িয়ে তোলে। ডাক্তারের কথা শোনার সাথে সাথে আমার চোখের সামনে ক্রমান্বয়ে পুফি, কার্পেট, মা’র তেলাপোকা নিয়ে রাগ, বাড়ির পিছনের জঙ্গল, সামনের ধূলিধূসর রাস্তা ভেসে উঠল এবং শেষ পর্যন্ত আমি সাবরিনের অ্যাটাকের কারণ সম্পর্কে জানতে পারলাম।

ডাক্তারকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি এই আনন্দেই সাবরিনকে নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালাম যে, সাবরিনের হরমোন বা শারীরিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলেও অন্তত পারিপার্শ্বিক কারণগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে ওর অ্যাজমার কষ্টটা কমানো যাবে।

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago