একটু বিড়ালের সাথে খেললে কি হয়?

“ওর সাথে আমি খেলবই!”

আম্মুর চোখ ফাঁকি দিয়ে আজকাল জয়ের কাছে চলে যাই। কি নরম আর তুলতুলে গা ওর। ধরতেই ভালো লাগে আমার। জয় আমাদের পাশের বাসার বিড়াল। এত আদর লাগে ওকে দেখলে! কিন্তু বেশীরভাগ দিনই ওকে ধরলে আমার হাঁচি শুরু হয়ে যায়। থামাতে পারি না কোনোভাবেই। দম বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম যখন হয় তখন আম্মু!! আম্মু!! বলে ডাক দেই। আম্মু এসে কি যেন মুখের ভিতরে স্প্রে করে দেয় আর জোরে জোরে শ্বাস নিতে বলে। তারপর একটু শান্তি পাই।

আম্মু অনেক কান্নাকাটি করে তখন। বারবার বলে “কতবার নিষেধ করেছি জয়ের কাছে না যেতে?” আম্মু ওর সাথে খেলতে দিতে চায় না এখন আর। বলে আমার অ্যাজমা নাকি আরও খারাপ হয়ে যাবে।

কিন্তু আমার যে বারবার যেতে মন চায়। ওর সাথে খেলতে যে কি ভালো লাগে আমার তা বোঝাতে পারব না আমি। সব দোষ এই হতচ্ছাড়া রোগটার। আগে কত ভালোই না ছিলাম। সারাদিন জয় কে নিয়ে পডে থাকতাম। কেউ কিচ্ছু বলত না। কিন্তু বছর জুড়ে হাঁচি কাশি লেগেই থাকত আমার।

এক পর্যায়ে মনে হত আমার, কে যেন আমার গলা চেপে ধরেছে। অনেক ডাক্তার এর কাছে যাওয়া হল, হাজারো টেস্ট এর পর ডাক্তার বললেন অ্যাজমা এর কথা। আরও বললেন, আমাকে এখন থেকে অনেক সাবধানে থাকতে হবে। বাইরে বের হলে সবসময় মুখে মাস্ক পরে বের হতে হবে। স্কুল শেষে ধুলা মাখা ফুচকা, চটপটি খাওয়া যাবে না কিছুতেই। আইসক্রিমও বাদ। এমনকি জয়ের কাছেও যাওয়া যাবে না। এই রোগটা আমার জীবনের সন আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।

বিকেল হলেই বন্ধুদের দেখি বাইরে ইচ্ছেমত খেলতে। আমি জানালা দিয়ে বাইরে দেখতেই থাকি। আমার তো সেখানে যাওয়া নিষেধ। পাশের বাসার উঠানে দেখি জয়ও এক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ওকে দেখলেই মনে হয়, ও যেন আমাকে ডাকছে। মনে হয় যেন, অভিমান নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। কতদিন যে ওর সাথে খেলা হয় না। তবে আমিও ঠিক করে রেখেছি, একদিন নিশ্চয়ই এই রোগ থেকে আমি মুক্তি পাবই। এই অ্যাজমার শিকল ছিড়ে বেরিয়ে এসে আমি জয় এর সাথে খেলা শুরু করবই করব।

আমার স্বাধীনতার পথে কোনো কিছুই বাধা হয়ে থাকতে পারবে না। এই বাধা আমি ছিড়বই ছিড়ব।

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago