শুধু একটু খেলতে চেয়েছিলাম আমি…

ছোটবেলায় মা আদর করে নাম রেখেছিল “বিদ্যুৎ”। জন্মের পর মা যখন আমাকে কোলে তুলে নিলেন, আবেগে তার শরীর হালকা কেঁপে উঠে। সেই থেকে নাম বিদ্যুৎ।

বিদ্যুৎ এর মতই দুরন্ত-দস্যি আমি। ছোটবেলার দিনগুলো আজও মনে পড়ে, মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে পড়ার টেবিল থেকে পালানো। পুকুরের জলে পাল্লা দিয়ে সাঁতার দেয়া, পুকুর পাড়ের নারকেল গাছ থেকে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়া। দস্যিপনার কারনে আমার বিদ্যুৎ নাম খানা দিকে দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ল। পাড়ার দুষ্টু লোকে মিষ্টি স্বরে মাঝে মাঝে টিটকিরি মারত, “বিদ্যুৎ তুমি লোডশেডিং নিয়ে আসবে না তো ?”

দুষ্ট তকমাটা একটা মজার ঘটনার কারণে ঘুচে গেল, রীতিমত জনবীরে পরিণত হয়ে গেলাম। ঘটনার শুরু এভাবে, গ্রামের হেয়ালী মেম্বারের সাধ হল গ্রামে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হবে। দৌড়, লাফ, ঝাফ, সাঁতার সবই থাকবে।

বাচ্চাদের সাঁতার নাম দিলাম, কিভাবে যেন প্রথম হয়ে গেলাম। আমাকে ঘিরে সবার সেকি উল্লাস। আমিও মহা খুশি, জিতলে কার-ই বা মন্দ লাগে। তারপর ডুব সাঁতারের জন্য প্রতিযোগীদের ডাকা শুরু হল। সবার শেষে আমার নামটাও ডেকে দিল। কিন্তু আমিতো ডুব সাঁতারে নাম লিখাইনি। পরে অবশ্য জেনে ছিলাম সাঁতারে হেরে বাল্যবয়সের ফ্রেন্ড ফয়সাল আমার নামখানা ডুব সাঁতার প্রতিযোগিতায় দিয়েছিল। লোকে উৎসব করতে করতে আমাকে আবার পুকুরে নামিয়ে দিল। আমার মাঝেও কজের নেশা চাপিয়া বসলো। একরকম জেদ করে ডুব দিলাম। পানির নিচে চোখ নাক বন্ধ করে বসে ছিলাম।

কতক্ষন বসে ছিলাম জানি না। যখন আমাকে টেনে তোলা হল, চারদিক তাকিয়ে দেখি সবাই তালি দিচ্ছে। কিছুক্ষন পর আরও একখানা প্রথম স্থানের মেডেল ঝুললো। সেই থেকে আমি জনবীর। সেদিনের পর থেকেই জীবন থেকে লোডশেডিং চলে গেল।

সেদিন বুঝলাম, ভালো হতে পয়সা লাগে না, লাগে পরিশ্রম। আর আমার মাঝে যে দীর্ঘক্ষন নিঃশ্বাস রাখার ক্ষমতা আছে তাও বুঝতে পারলাম।

কি হচ্ছে এসব অতীত নিয়ে ভাবার সময় তো এখন নেই। মাঠের সবাই ‘বিদ্যুৎ’ ‘বিদ্যুৎ’ বলে চিৎকার দিচ্ছে। আন্তঃস্কুল ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল ম্যাচ খেলছি আমি। পুরো স্কুলের সবাই আমার দিকে তাকিয়ে। মাঝ মাঠ থেকে সজীব বলটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিল।

ওদের রক্ষণভাগ অগোছালো আছে, এই সুযোগ। বল নিয়ে দৌড় শুরু। মাঝ মাঠ থেকে ছুটছি, ডান থেকে বায়ে, বাঁ থেকে ডানে, কখনো সোজা,কখনো এঁকেবেঁকে। গোলরক্ষক আর আমার দূরত্ব কমছে, সেসাথে কমছে নিঃশ্বাস নেয়া। তারপর … তারপর সব অন্ধকার।

পরিষ্কার বিছানা আর ঔষধ-ঔষধ গন্ধ বলে দিচ্ছে আমি হাসপাতালে।  নিঃশ্বাস  বন্ধ হয়ে অজ্ঞান গিয়েছিলাম। ডাক্তার বলল অ্যাজমা। খেলা-ধুলা বন্ধ।

আজ মা নেই, অদম্য  নিঃশ্বাসটাও নেই।  লোকমুখে “বিদ্যুৎ” নামটি আর কদিনই বা আর থাকবে ?!

 

 

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago