স্ট্রোক মানেই কিন্তু মৃত্যু নয়!

স্ট্রোক কি?

মস্তিষ্কের ভেতর হঠাৎ রক্ত চলাচলে বাধার কারনে যে শারিরীক অব্যবস্তা সৃষ্টি হয় তাকে স্ট্রোক বলে। স্ট্রোকের কারণে মস্তিষ্কের যে যে অঞ্চলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয় সেসব অঞ্চল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত দেহের অঙ্গ সমূহ পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পরে। আর বেশী রক্তক্ষরণ হলে সেটি মৃত্যু ডেকে আনে।

 

স্ট্রোক দুই প্রকার হয়ে থাকে-

  • ইসচেমিক (Ischemic) স্ট্রোক (আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া)
  • হেমোরেজিক (Hemorrhagic) স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ)

 

স্ট্রোক কেন হয়?

স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল করতে না পারার জন্য হয়।

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলের জন্য প্রধান যে নালীকা রয়েছে সেখানে যদি কোনো কারনে  রক্ত জমাট বাধে বা অন্য কোনোভাবে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয় তবেই স্ট্রোক হবে।

 

স্ট্রোকের লক্ষণঃ

স্ট্রোকের কিছু সাধারন লক্ষণ হলো-

  • মাথা ঘুরানো
  • হাঁটতে অসুবিধা হওয়া, ভারসাম্য রক্ষায় অসুবিধা হওয়া
  • কথা বলতে সমস্যা হওয়া
  • অবশ এবং দুর্বল লাগা
  • শরীরের এক পাশ অকেজো হওয়া
  • চোখে ঘোলা লাগা, অন্ধকার লাগা বা ডাবল দেখা
  • হঠাৎ খুব মাথা ব্যাথা করা

 

স্ট্রোক হলে করণীয়ঃ

স্ট্রোক পৃথিবীর ৫ম সর্বোচ্চ মৃত্যুর কারন। ২০১৫ সালের এক জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৬.২ মিলিয়ন মানুষ স্ট্রোক করে মারা যান। একটু সচেতন হলেই স্ট্রোক থেকে মৃত্যুর হার একেবারেই কমিয়ে আনা সম্ভব। চলুন জেনে নেই স্ট্রোক হলে কি করা উচিত।

স্ট্রোক হলে সবার আগেই যে চেষ্টা করা উচিত সেটি হলো যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেয়া। তবে কোনো কারনে যদি দ্রুত হাসপাতালে নেয়া সম্ভব না হয় তবে সাথে সাথে যেটি করা উচিত তা হলো-

  1. একটি সুঁইকে আগুনে কিছুক্ষণ গরম করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
  2. রোগীর হাতের ১০ আঙুলে এই সুঁই দিয়ে এমনভাবে ছিদ্র করে দিন যেন রক্ত বের হয়।
  3. যথেষ্ঠ রক্তপাত হলে আস্তে আস্তে রোগী স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
  4. তা না হলে, রোগীর কানে ম্যাসাজ করুন। এমনভাবে যেন কান লাল হয়ে যায়।
  5. এবার কানের নরম অংশে ছিদ্র করে দিন যাতে রক্ত বেরিয়ে যায়।

এই পদ্ধতি চীনে স্ট্রোকের প্রথাগত চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি সম্পুর্ন কার্যকর একটি পদ্ধতি।

এছাড়াও আরো কিছু কাজ করা যায় যেমন-

  • রোগীকে শুইয়ে পা হালকা উঁচুতে উঠিয়ে রাখা।
  • বাতাস করে গায়ের তাপমাত্রা দ্রুত কমানো।
  • মাথায় পানি ঢালা।

স্ট্রোক করার পর প্রাথমিক চিকিতসা শেষে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেয়া উচিত। পর্যাপ্ত বিশ্রাম স্ট্রোকের ঝুকি কে খুবই কমিয়ে দেয়।

 

স্ট্রোক থেকে বাচার উপায়ঃ

স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন স্ট্রোকের ঝুকি সম্পূর্নরূপে কমিয়ে দিতে পারে। স্ট্রোকের ঝুকি কমানোর জন্য যা যা করা যেতে পারে তা হলো-

  • ব্লাড প্রেসার নিয়মিত মাপা এবং কন্ট্রোল করা।
  • ধুমপান এড়িয়ে চলা।
  • কোলেস্ট্রল এবং চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া।
  • নিয়ম মাফিক খাবার-দাবার গ্রহণ।
  • ডায়াবেটিস থাকলে সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
  • নিয়ম করে হাটা বা হালকা দৌড়ানো।
  • দুশ্চিন্তা না করা।
  • মাদক না নেয়া , মদ্য পান পরিহার করা।

স্ট্রোকের পর সামান্য একটু অসতর্কতা অনেক বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, সুতরাং আশেপাশে কারো স্ট্রোক হলে একটু সচেতনভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত।

 

Contributor: Zobair Hossain Mahfuz

Institute of Education and Research (IER)

University of Dhaka

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 months ago