হঠাৎ হাঁচি আসলে কি করণীয়?

 

হাঁচি দেয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। যদিও আমাদের কাছে এই ব্যাপার গুলো অনাকাংক্ষিত। যেমন ধরেন অফিসে বস কোন জরুরি মিটিং কিংবা কোন প্রজেক্টে অথবা অফিসিয়াল ডিনারে, আপনি একের পর এক হাঁচি দিচ্ছেন ব্যাপারটা খুবই অস্বস্তিকর।
আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর চূড়ান্ত পর্বে অথবা চাকরির জন্য মৌখিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। হঠাৎ ভীষণ হাঁচি পেল। এখন কী করবেন! পরীক্ষাটা মাটি হবে? এরকম হঠাৎ হাঁচি এলে কি করবেন?


হাঁচি দিলে যা ঘটে:
যদি আমরা নাকে খুব বেশি সুড়সুড়ি দিই তবে সাথে সাথে এটি মেডুলার পার্শ্বীয় অংশে বা হাঁচি কেন্দ্রে চলে যায় এবং হাঁচি দেবার জন্যে আমাদের ফুসফুসে, চোখে আর গলায় একটি সংকেত প্রেরণ করে। তখন কিছু মজার ব্যাপার ঘটে! আসুন, জেনে নেওয়া যাক।
প্রথমতঃ চোখ বন্ধ হয়ে যায়। (যদি হাঁচি দেবার সময় আমাদের চোখ বন্ধ না হয়, তবে সম্ভবতঃ যে ক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে হবার কথা তা ঘটেনি এবং এটা নির্দেশ করে যে, এই ধরণের হাঁচি স্বাভাবিক না বরং অস্বাভাবিক হাঁচি, যা রোগীর মানসিক সমস্যা আছে বলে নির্দেশ করে!)। তারপর আমরা গভীর নিঃশ্বাস বা বড় দম নিই। ফলে শ্বাসরন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। তখন জিহ্বা মুখের ওপরের বিপরীতে চাপ দেয়।
তাই ফুসফুসে বাতাসের চাপ বৃদ্ধি পায় এবং বুকের পেশীগুলো আমাদের ফুসফুসকে দ্রুত সংকুচিত করে, ফলে একটি বাতাসের বিস্ফোরণ উপরের দিকে চলে আসে। গলার পেশী শক্ত হয়ে যায়। তখন বিস্ফোরণ আকারে মুখ এবং নাক দিয়ে খুব দ্রুত নিঃশ্বাস বের হয় এবং সাথে সাথে শ্বাসরন্ধ্রের পথ খুলে যায়। সবচেয়ে মজার ব্যাপার ঘটে এই পর্যায়ে! কারণ,  হাঁচি সম্পন্ন হলে এদিক ওদিক কয়েকবার তাকিয়ে নিই!




কিছু পরামর্শ:

১. সবচেয়ে সহজ ও ধন্বন্তরি চিকিত্সা হলো, মুখ মোছার ভঙ্গি করে আপনার হাতের তর্জনী দিয়ে নাকের ডগায় সুড়সুড়ি দিন। খুব হালকাভাবে আঙুল বোলালেই চলবে। ব্যস, হাঁচি হাওয়া। পরীক্ষক বুঝতেই পারবেন না যে আপনি একটা অস্বস্তির মধ্যে পড়েছেন। তবে কাজটা খুব দ্রুত কিন্তু স্বাভাবিক ভঙ্গিতে করতে হবে। এবং হাঁচির অনুভূতির শুরুতেই আঙুল চলে যাবে নাকের কাছে। একটু দেরি হলেই সর্বনাশ। নাকের ডগা খুব অনুভূতিপ্রবণ। সেখানে আঙুলের হালকা স্পর্শ নাকের ভেতরের অস্থিসন্ধির সঙ্গে যুক্ত শুভ্র তন্তুময় সংবেদনশীল উপাস্থিকে হাঁচির প্রতিকূল সংকেত দেয়। ফলে হাঁচি আর আসে না। পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
২. হাঁচির আভাস পেলেই মুখের ভেতর জিহ্বা দিয়ে তালুতে সুড়সুড়ি দিন। হাঁচি থেমে যাবে।
৩. অথবা আঙুল দিয়ে দুই ভুরুর মাঝখানে চাপ দিন। এতেও উপকার পাওয়া যাবে।
৪. অন্য একটি উপায় আছে। আঙুল দিয়ে ঠোঁট চেপে ওপরে নাকের দিকে চাপ দিন। এটা হাঁচির অনুভূতি থামাতে সাহায্য করবে। কানের লতি চেপে ধরলেও কাজ হবে।
৫. হাঁচি যদি এসেই পড়ে, তাহলে নাকের সামনে রুমাল ধরে প্রাণভরে কিন্তু যথাসম্ভব কম শব্দে হাঁচি দিন। যদি হাতের কাছে রুমাল বা টিস্যু না থাকে, তাহলে দুই হাতে নাক-মুখ ঢেকে হাঁচি দিন এবং পরে দ্রুততম সময়ে হাত ধুয়ে ব্যাকটেরিয়া পরিষ্কার করে নিন। এতে অন্তত পরীক্ষক বুঝবেন যে আপনি স্বাস্থ্যসচেতন।

 

Contributor: Tarif Tahmeed Khan

Bangladesh University of Professionals (BUP)

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

মধুর উপকারিতা

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

স্বাস্থ্য রক্ষায় রসুন

হেলথকেয়ার ব্লগ
3 weeks ago

১০০ রোগের ঔষধ একটি নিম গাছ

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 month ago