হার্ট এ্যাটাক এড়াতে কি করবেন?

শরীরের সব অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। তবে হার্টের গুরুত্বটা একটু বেশিই। কেননা হার্টের সুস্থতার ওপর শরীরের সুস্থতা নির্ভর করে। তাই হার্টের সুস্থতা সকলেই একান্ত কাম্য। কিন্তু আজকাল বেজাল খাদ্য আর ব্যস্ত জীবন-যাত্রার কারণে শরীরের সুস্থতার দিকে আমরা মোটেও নজর দেইনা। তাই নানা রকম শারীরিক সমস্যার সাথে সাথে হার্টেও সমস্যা দেখা দেয়।
আমাদের দেহ পেশিগুলোর অক্সিজেন এবং পুষ্টির অবিচলিত সরবরাহের প্রয়োজন হয়। হার্টও একটি পেশি। এই অক্সিজেন ও পুষ্টির সাপ্লাই ব্লাড, করনারি আরটারিস এর মাধ্যমে হার্টে পৌঁছে দেয়। একটি স্বাস্থ্যকর ডায়েট সবসময় আপনার করনারি আরটারিকে পরিষ্কার রাখে যাতে হার্টে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ পৌঁছাতে পারে। জেনে নিন এমন কিছু কার্যকরী উপায় যাতে সহজেই আপনার হার্ট থাকবে সুস্থ।

হার্ট ভালো রাখার উপায় : সাধারণত হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ব্লক ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যাদের হার্টে এখনো কোনো সমস্যা নেই এবং অন্য কোনো অসুখ নেই এবং যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ বা কিডনির সমস্যা নেই, তাদের জন্য হার্ট বিশেষজ্ঞরা হার্ট ভালো রাখতে কয়েকটি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমেরিকার হার্ট অ্যাসোসিয়েশন থেকেও বলা হয়েছে এ উপায়গুলোর কথা। যেমন

চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া কমানো : কিছু চর্বি আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু তা বেশি খেলে অতিরিক্ত চর্বি হার্টের ধমনির গায়ে জমা হতে হতে তৈরি করতে পারে গুরুতর সমস্যা। স্যাচুরেটেড ফ্যাট সংবলিত খাবারÑ মাংসের চর্বি, বার্গার, মাখন, কুকি, কেক ইত্যাদি বেশি খাওয়া ক্ষতিকর। অন্যদিকে পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড সংবলিত খাবার রক্তের কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। বাদাম, মাছের তেল, সামুদ্রিক মাছ, সূর্যমুখী তেল ইত্যাদি এ জন্য ভালো। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, সপ্তাহে অন্তত ১০০ গ্রাম বাদাম খাওয়া উচিত।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন : দৈনিক খাদ্য তালিকায় শাকসবজি, ফাইবারযুক্ত খাবার ও অন্তত একটি ফল রাখতে হবে।

ধূমপান পরিত্যাগ : হার্ট অ্যাটাকের ৫০ শতাংশ ব্যক্তিই ধূমপায়ী। ধূমপানে অ্যাথেরোসক্লরোসিস সরাসরি প্রভাবিত করে এবং ধমনিগুলো শক্ত করে দেয়। ধূমপান পরিহার করার সঙ্গে সঙ্গে পান, জর্দা, তামাক ইত্যাদিও কমিয়ে দিন।

ব্যায়াম করুন নিয়মিত : দৈনিক অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। অল্প দূরত্বে হেঁটে যান। শিশুদের কম্পিউটার গেমসের পরিবর্তে খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন।

দুশ্চিন্তমুক্ত থাকুন : জীবনকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখুন। দুশ্চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। অবসরে বই পরুন, বাগান করুন, গান শুনুন ও কল্যাণকর কোনো কাজে ভূমিকা রাখুন।

বিশ্রাম নিন : কাজের ফাঁকে ৫-১০ মিনিট বিশ্রাম নিন। দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান। সুন্দর দাম্পত্য জীবন বজায় রাখুন।

যাদের শারীরিক অন্য সমস্যা আছে : উচ্চরক্তচাপ থাকলে হার্ট অতিরিক্ত কাজ করে। ফলে হৃৎপি- ক্রমেই বড় হতে থাকে। এক সময় বড় হওয়া সত্ত্বেও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত পাম্প করতে না পারায় হার্ট ফেইলিওরে চলে যায়। তাই যাদের উচ্চরক্তচাপ ধরা পড়েছে, তারা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত ওষুধ খান।

হার্ট এ্যাটাক এড়াতে এই উপায় গুলো মানার চেষ্টা করুন।

আরও গল্প

একটা মুভি দেখা কি এতই ...

এই কি জীবনের সব?

কেন আমি কখনো বৃষ্টিতে ভিজতে ...

আরও গল্প

অ্যাজমার চিকিৎসা

হেলথকেয়ার ব্লগ
2 days ago

10 ways to keep your mind sharp!

হেলথকেয়ার ব্লগ
6 days ago

কোমর ব্যথায় করণীয়

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 week ago

হঠাৎ হাঁচি আসলে কি করণীয়?

হেলথকেয়ার ব্লগ
1 week ago