বোরনের অভাবজনিত লক্ষণ ঃ
১.
কচি পাতা হলুদভাব ও লালচে হয়ে যায় এবং পাতা কুঁকড়ে যায়।
২.
কচি পাতা নেতিয়ে পড়ে এবং গাছে পানি দেওয়ার পরও পাতা সতেজ হয় না।
৩.
গাছের কচি ডালের বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় গিড়া খাটো হয়, গাছ ঠিকমতো বাড়ে না, পাতার বোঁটা ফেটে যায়।
৪.
পরাগায়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় শস্য ও ফলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যায়।
৫.
ফুলকপির কার্ডে গর্ত হয়, বাঁধাকপির হেড ফরমেশন হয় না এবং ফলের আকার বিকৃত হয়।
৬.
শিমের মধ্যভাগ পঁচে কালচে রং ধারণ করে।
তামাক গাছের উপরিভাগ পঁচে যায়।
৭.
ধান, গম ভূট্টা ইত্যাদি ফসলে দানা পুষ্ট হয় না।
৮.
ফলের ত্বক ফেটে যায়, গোল আলু, পেঁপে, গাজর ইত্যাদি ফলের আকার বিকৃতি হয়।
৯.
ধানের বেশি মাত্রায় চিটা হয়।
প্রয়োগক্ষেত্র ঃ ধান, গম, ভুট্টা, আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, কুমড়া, শসা, পটল, করলা, গাজরসহ সকল প্রকার ডালজাতীয় ফসল, চিনাবাদাম, সরিষা, পেঁপে তুলা, চা সহ যাবতীয় ফসলের তেজি বোরন ব্যবহার করা যায়।
প্রয়োগ পদ্ধতি ঃ জমি তৈরির শেষ চাষে বা চারা লাগানোর সময় অন্যান্য রাসায়নিক সারের সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
মাটিতে ছিটিয়ে ও পাতায় স্প্রে, দুই ভাবেই প্রয়োগ করা যায়।
প্রয়োগমাত্রা ঃ ফসলের দ্রুত বর্ধনকালে প্রতি লিটার পানিতে ১-১.৫ গ্রাম তেজি সলুবোর মিশিয়ে গাছে স্প্রে করুন।
ফসলের ফুল বা ফল ধরার সময় হতে শুরু করে ১৫ দিন অন্তর অন্তর দুই বার প্রয়োজনে তৃতীয় বার স্প্রে করতে হবে।
ভিন্ন ভিন্ন ফসলের প্রয়োজন মোতাবেক প্রয়োগ মাত্রা কম বেশি হতে পারে।
তেজি সলুবর মাটিতে সরাসরি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে ৩৩ শতকে ৩০০-৫০০ গ্রাম হারে জমিতে ছিটিয়ে দিতে হবে।